প্রেম আর ভালোবাসার গল্প তো আমরা কতই শুনি! সিনেমা, বই, এমনকি বন্ধুদের আড্ডাতেও ভালোবাসার জয়গান। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একটা গোটা শহর প্রেমের জন্য তার সবচেয়ে জনপ্রিয় জিনিসটাকেও দূরে সরিয়ে রাখতে পারে? ভাবছেন, এ আবার কেমন কথা? চলুন, আজ আপনাদের এমনই এক জায়গার গল্প শোনাই, যেখানে ভালোবাসার শক্তি এতটাই বেশি যে শহরের মানচিত্র থেকেই একটা জিনিস উধাও হয়ে গেছে!
এক শহরের অদ্ভুত ভালোবাসা
আমেরিকার ভারমন্ট রাজ্যের ছোট্ট রাজধানী শহরটির নাম মন্টপেলিয়ার। বাইরে থেকে দেখতে আর পাঁচটা সাধারণ শহরের মতোই। কিন্তু এই শহরের একটা অদ্ভুত বিশেষত্ব আছে। জানেন সেটা কী? এই শহরে কোনো ম্যাকডোনাল্ড’স (McDonald's) নেই! শুধু তাই নয়, এখানে বার্গার কিং, কেএফসি (KFC)-র মতো কোনো বড় ফাস্ট-ফুড চেনও খুঁজে পাওয়া যায় না। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। আর এর পেছনের কারণটা কিন্তু বেশ মিষ্টি।
ব্যাপারটা হলো, মন্টপেলিয়ারের মানুষজন তাদের স্থানীয় ছোট ছোট ব্যবসা এবং রেস্তোরাঁগুলোকে খুব ভালোবাসে। তাদের মতে, বড় বড় চেন রেস্তোরাঁগুলো যদি শহরে চলে আসে, তাহলে তাদের নিজেদের লোকেদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে। শহরের সেই পুরোনো আকর্ষণ, সেই আন্তরিকতা আর থাকবে না। তাই তারা সবাই মিলে ঠিক করে, কোনো বড় ফাস্ট-ফুড কোম্পানিকে তাদের শহরে ঢুকতে দেবে না।
জানেন কি? আমেরিকার ভারমন্ট রাজ্যের রাজধানী মন্টপেলিয়ার হলো একমাত্র রাজধানী শহর, যেখানে কোনো ম্যাকডোনাল্ড’স নেই। শহরের মানুষ স্থানীয় ব্যবসাকে এতটাই ভালোবাসে যে, তারা বড় কোনো ফাস্ট-ফুড চেনকে সেখানে ঢুকতেই দেয়নি।
একবার ১৯৯৬ সালে ম্যাকডোনাল্ড'স শহরে একটি রেস্তোরাঁ খোলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শহরের মানুষ এবং প্রশাসন একসাথে এর বিরোধিতা করে। ট্র্যাফিকের সমস্যা থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতির কথা ভেবে সেই আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়। এরপর আর কোনো বড় কোম্পানি সেদিকে পা বাড়ানোর সাহস করেনি।
তাহলে কি এই শহরের মানুষ বার্গার বা ফ্রাই ভালোবাসে না? অবশ্যই বাসে! তবে তারা বাইরের কোম্পানির তৈরি খাবারের চেয়ে নিজেদের শহরের মানুষের হাতে বানানো খাবার খেতেই বেশি পছন্দ করে। সেখানে রয়েছে স্থানীয়দের ছোট ছোট ক্যাফে, বেকারি আর রেস্তোরাঁ, যেখানে গেলে খাবারের সাথে পাওয়া যায় একরাশ আন্তরিকতা আর ভালোবাসা। এই শহরের গল্পটা আমাদের শেখায়, ভালোবাসা শুধু দুজন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ভালোবাসা হতে পারে নিজের শহর, নিজের মানুষ আর নিজের সংস্কৃতির প্রতিও। আর সেই ভালোবাসার জন্য মাঝে মাঝে বড় বড় জিনিসকেও 'না' বলতে জানতে হয়। মন্টপেলিয়ারের মানুষরা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে। তারা বার্গারের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছে তাদের শহর আর সেখানকার মানুষদের।