বিষয়ের ভূমিকা

ভারতীয় ইতিহাসের পাতায় যখনই স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা ওঠে, তখন একজন মানুষের নাম অবধারিতভাবে সবার আগে চলে আসে - মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যাঁকে আমরা ভালোবেসে 'মহাত্মা' বা 'বাপু' বলে ডাকি। দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি সেই মহান ব্যক্তিত্ব এবং তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। এই অধ্যায়টি কেবল কিছু তারিখ বা ঘটনার সংকলন নয়, এটি একটি জাতির জেগে ওঠার গল্প, অহিংসা ও সত্যাগ্রহের মতো অস্ত্রের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার কাহিনী।

১৯১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে গান্ধীজির ভারতে প্রত্যাবর্তন থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভ এবং তাঁর জীবনাবসান পর্যন্ত সময়কাল এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়। আমরা দেখব কীভাবে একজন ব্যারিস্টার ভারতের সাধারণ মানুষের নাড়ি-নক্ষত্র বুঝলেন, কীভাবে তিনি চরকা ও খদ্দরকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত করলেন এবং অসহযোগ, আইন অমান্য ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনের মতো গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে কোটি কোটি ভারতবাসীকে স্বাধীনতার স্বপ্নে উদ্বুদ্ধ করলেন। এই অধ্যায়টি পড়লে আমরা শুধু গান্ধীজিকেই নয়, সেই সময়ের ভারতকে, তার সমাজকে এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে আরও গভীরভাবে বুঝতে পারব। চলুন, ইতিহাসের সেই উত্তাল দিনগুলিতে ডুব দেওয়া যাক এবং ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে निर्णायक পর্বটিকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

গান্ধীর ভারতে প্রত্যাবর্তন ও প্রাথমিক আন্দোলন (১৯১৫-১৯১৮)

১৯১৫ সালের জানুয়ারি মাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় দুই দশক কাটানোর পর ভারতে ফিরে আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলনের মাধ্যমে একজন সম্মানীয় নেতা এবং সংগঠক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক পরামর্শদাতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলে তাঁকে এক বছর ধরে ভারত ভ্রমণ করে দেশের পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের অবস্থা বোঝার পরামর্শ দেন। গান্ধীজি এই পরামর্শ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। এই এক বছরের নীরব পর্যবেক্ষণ তাঁকে ভারতের আসল চিত্রটা চিনতে সাহায্য করেছিল।

তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল ১৯১৬ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (BHU) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজা-মহারাজা এবং ব্রিটিশ আধিকারিক। তাঁদের মাঝে দাঁড়িয়ে গান্ধীজি তাঁর ভাষণে ভারতের লক্ষ লক্ষ গরিব ও শোষিত কৃষক-শ্রমিকের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, ভারতের মুক্তি ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না কৃষকদের শোষণ থেকে মুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর এই भाषण তথাকথিত অভিজাত জাতীয়তাবাদী নেতাদের থেকে তাঁকে আলাদা করে দিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে তাঁর উত্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

এরপর গান্ধীজি তিনটি স্থানীয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, যা তাঁকে সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে:

  • চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭): বিহারের চম্পারণে নীলকর সাহেবরা স্থানীয় কৃষকদের তাঁদের জমির একটি নির্দিষ্ট অংশে নীল চাষ করতে এবং অত্যন্ত কম দামে সেই নীল বিক্রি করতে বাধ্য করত। এই 'তিনকাঠিয়া' প্রথার বিরুদ্ধে কৃষকদের পাশে দাঁড়ান গান্ধীজি। তিনি অহিংস প্রতিবাদের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রশাসনকে বাধ্য করেন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে এবং অবশেষে এই শোষণমূলক প্রথা বাতিল হয়। এটিই ছিল ভারতে গান্ধীজির প্রথম সফল সত্যাগ্রহ।
  • আমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (১৯১৮): আমেদাবাদের কাপড়ের কলের মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে প্লেগ বোনাস নিয়ে বিবাদ শুরু হলে গান্ধীজি শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়ান। তিনি শ্রমিকদের অহিংস ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং নিজে অনশনে বসেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলে মিল মালিকরা নতি স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং শ্রমিকদের দাবি মেনে নেন।
  • খেড়া সত্যাগ্রহ (১৯১৮): গুজরাটের খেড়া জেলায় ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষকরা রাজস্ব মকুবের দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার রাজস্ব ছাড় দিতে রাজি ছিল না। গান্ধীজি এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কৃষকদের সংগঠিত করে 'কর বন্ধ' আন্দোলনের ডাক দেন। শেষ পর্যন্ত সরকার নমনীয় হতে বাধ্য হয় এবং শুধুমাত্র সক্ষম কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ের নির্দেশ দেয়।

এই তিনটি আন্দোলন গান্ধীজিকে ভারতের সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিকদের কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং তাঁর 'সত্যাগ্রহ' ও 'অহিংসা'র কৌশল যে কার্যকর, তা প্রমাণ করে দেয়।

রাওলাট আইন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (১৯১৯)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতীয়রা ব্রিটিশদের এই আশায় সমর্থন করেছিল যে, যুদ্ধের পর তাদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু যুদ্ধের শেষে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের উপহার দেয় 'রাওলাট আইন'-এর মতো একটি দমনমূলক আইন। এই আইন অনুসারে, ব্রিটিশ পুলিশ কোনো পরোয়ানা ছাড়াই যে কোনো ভারতীয়কে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করতে এবং বিনা বিচারে অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারত। এটি ছিল নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের উপর এক নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ।

গান্ধীজি এই 'কালা আইন'-এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং দেশব্যাপী এক 'রাওলাট সত্যাগ্রহ'-এর ডাক দেন। ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল দেশজুড়ে হরতাল, সভা এবং মিছিলের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায় এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে পাঞ্জাবে, এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।

এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অমৃতসর। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে সামরিক আইন জারি করে এবং সমস্ত সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষ এই নির্দেশ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল, শিখদের নববর্ষ উৎসব বৈশাখীর দিনে, অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে সমবেত হন। সেই সময় জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ার তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে বাগের একমাত্র প্রবেশ ও প্রস্থানের পথটি আটকে দেন এবং কোনোপ্রকার সতর্কবার্তা ছাড়াই নিরস্ত্র জনতার উপর নির্বিচারে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। সরকারি হিসাব অনুসারেই প্রায় ৪০০ মানুষ নিহত এবং সহস্রাধিক আহত হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্রিটিশদের দেওয়া 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে দেয় যে ব্রিটিশ শাসন কতটা বর্বর হতে পারে এবং এটি গান্ধীজিকে ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থার উপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারাতে বাধ্য করে। এই ঘটনাই অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দেয়।

অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২) এবং খিলাফত প্রসঙ্গ

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড এবং রাওলাট আইনের প্রতিক্রিয়ায় গান্ধীজি বুঝতে পারেন যে, ব্রিটিশদের সাথে আর সহযোগিতার সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তিনি এক দেশব্যাপী 'অসহযোগ আন্দোলন'-এর পরিকল্পনা করেন। তাঁর মূল ধারণাটি ছিল খুব সহজ কিন্তু শক্তিশালী: ভারতীয়দের সহযোগিতা ছাড়া ব্রিটিশ শাসন ভারতে এক দিনও টিকতে পারবে না। যদি ভারতীয়রা স্বেচ্ছায় ব্রিটিশদের স্কুল, কলেজ, আদালত, সরকারি চাকরি এবং বিদেশি পণ্য বর্জন করে, তাহলে ব্রিটিশ শাসন কাঠামো ভেঙে পড়তে বাধ্য।

এই সময় তুরস্কের সুলতান, যিনি বিশ্বের মুসলিমদের কাছে 'খলিফা' বা ধর্মগুরু হিসেবে সম্মানিত ছিলেন, তাঁর ক্ষমতা ব্রিটিশদের দ্বারা খর্ব করা হয়। এর প্রতিবাদে ভারতে মহম্মদ আলি এবং শওকত আলির নেতৃত্বে 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু হয়। গান্ধীজি এই সুযোগকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন। তিনি খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন করেন এবং কংগ্রেসকে রাজি করান খিলাফত ও স্বরাজের দাবিকে একত্রিত করে এক বৃহত্তর অসহযোগ আন্দোলন শুরু করার জন্য।

১৯২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে অসহযোগ আন্দোলনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল:

  • বয়কট: সরকারি স্কুল, কলেজ, আদালত, আইনসভা বর্জন। বিদেশি, বিশেষ করে ব্রিটিশ পণ্য বর্জন। সরকারি খেতাব ও চাকরি ত্যাগ।
  • স্বদেশী: চরকায় সুতো কেটে খাদি বা দেশীয় বস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার। জাতীয় বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এবং পঞ্চায়েত আদালত স্থাপন।

সারা দেশে এই আন্দোলন অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্কুল-কলেজ ছেড়ে দেয়, আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন, এবং সাধারণ মানুষ বিদেশি কাপড়ের হোলি খেলায় মেতে ওঠে। এটি ছিল ভারতের প্রথম সত্যিকারের গণ-আন্দোলন, যেখানে কৃষক, শ্রমিক, নারী এবং মধ্যবিত্ত—সমাজের সকল স্তরের মানুষ অংশ নেয়।

কিন্তু ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশের চৌরি চৌরা নামক স্থানে একটি উত্তেজিত জনতা একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে ২২ জন পুলিশকর্মী জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান। এই হিংসাত্মক ঘটনায় গান্ধীজি অত্যন্ত মর্মাহত হন। তাঁর কাছে অহিংসা ছিল আন্দোলনের মূল ভিত্তি। তিনি মনে করেন যে, দেশবাসী এখনও অহিংস सत्याগ্রহের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাই, অনেক নেতার আপত্তি সত্ত্বেও, তিনি একক সিদ্ধান্তে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, এটি নেতা হিসেবে গান্ধীজির অহিংসার প্রতি अटूट প্রতিশ্রুতির পরিচয় দেয়।

লবণ সত্যাগ্রহ ও আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪)

অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে কিছুটা স্থবিরতা আসে। কিন্তু ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন গঠন এবং ১৯২৯ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে 'পূর্ণ স্বরাজ' বা সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। ৩১শে জানুয়ারি, ১৯৩০-এর মধ্যে 'পূর্ণ স্বরাজ'-এর দাবি না মানা হলে গান্ধীজি এক নতুন গণ-আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

ব্রিটিশ সরকার এই দাবিতে কর্ণপাত না করায় গান্ধীজি তাঁর জীবনের অন্যতম বিখ্যাত আন্দোলন—'আইন অমান্য আন্দোলন' শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তিনি বেছে নেন 'লবণ'-এর মতো একটি সাধারণ কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় জিনিসকে। ব্রিটিশ সরকার লবণ তৈরি এবং বিক্রির উপর একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করেছিল এবং এর উপর भारी কর চাপিয়েছিল। এই লবণ কর ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকল ভারতীয়কে প্রভাবিত করত, তাই এটি ছিল ঔপনিবেশিক শোষণের এক শক্তিশালী প্রতীক।

১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ, গান্ধীজি তাঁর ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে গুজরাটের উপকূলবর্তী গ্রাম ডান্ডির উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। প্রায় ২৪০ মাইল দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তিনি বিভিন্ন গ্রামে থামেন, ভাষণ দেন এবং হাজার হাজার মানুষকে লবণ আইন ভাঙার জন্য অনুপ্রাণিত করেন। ৬ই এপ্রিল তিনি ডান্ডিতে পৌঁছান এবং সমুদ্রের জল থেকে একমুঠো লবণ তৈরি করে প্রতীকীভাবে ব্রিটিশ আইন ভঙ্গ করেন।

এই একটি ঘটনা যেন গোটা দেশে আগুন লাগিয়ে দেয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ লবণ আইন ভঙ্গ করতে শুরু করে। নারীরা, যাঁরা এতদিন মূলত ঘরের কাজেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, তাঁরা বিপুল সংখ্যায় এই আন্দোলনে যোগ দেন। তাঁরা মিছিলে হাঁটেন, পিকেটিং করেন এবং লবণ তৈরি করেন। আইন অমান্য আন্দোলন শুধুমাত্র লবণ আইন ভঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মানুষ বন আইন ভঙ্গ করে, কর দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং বিদেশি পণ্য বর্জন করতে থাকে।

ব্রিটিশ সরকার কঠোর হাতে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করে। গান্ধীজি-সহ প্রায় ৬০,০০০ सत्याগ্রহীকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু আন্দোলন থামেনি। অবশেষে, বড়লাট লর্ড আরউইন গান্ধীজির সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হন। ১৯৩১ সালে 'গান্ধী-আরউইন চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে গান্ধীজি আন্দোলন স্থগিত রেখে লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন। কিন্তু সেই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ফিরে এসে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন, যা ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত চলে। লবণ সত্যাগ্রহ প্রমাণ করে যে, অহিংস প্রতিরোধ কতটা শক্তিশালী হতে পারে এবং এটি আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের স্বাধীনতার দাবিকে প্রতিষ্ঠা করে।

ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় নেতাদের সাথে কোনোপ্রকার আলোচনা ছাড়াই ভারতকে যুদ্ধরত দেশ হিসেবে ঘোষণা করে। এর প্রতিবাদে কংগ্রেসের প্রাদেশিক সরকারগুলি পদত্যাগ করে। যুদ্ধের সময় ব্রিটিশরা ভারতের সমর্থন চাইছিল, কিন্তু ভারতীয় নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, একটি পরাধীন দেশ অন্য দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে পারে না।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ সরকার ১৯৪২ সালে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে 'ক্রিপস মিশন' ভারতে পাঠায়। এই মিশন যুদ্ধের পর ভারতকে 'ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস' বা সীমিত স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু তাৎক্ষণিক স্বাধীনতার দাবি নাকচ করে দেয়। গান্ধীজি এই প্রস্তাবকে 'একটি ফেল করা ব্যাঙ্কের উপর ভবিষ্যতের তারিখের চেক' (a post-dated cheque on a failing bank) বলে অভিহিত করেন। ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা ভারতীয়দের হতাশা আরও বাড়িয়ে তোলে।

এই পরিস্থিতিতে গান্ধীজি অনুভব করেন যে, এবার চূড়ান্ত আঘাত হানার সময় এসেছে। ১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট, বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে তিনি 'ভারত ছাড়ো' (Quit India) প্রস্তাব পেশ করেন। তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি দেশবাসীকে 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' (করব অথবা মরব) মন্ত্রে দীক্ষিত করেন। এর অর্থ ছিল, হয় আমরা ভারতকে স্বাধীন করব, অথবা সেই চেষ্টায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করব।

পরের দিন সকালেই ব্রিটিশ সরকার গান্ধীজি, নেহরু, প্যাটেল সহ কংগ্রেসের সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করে। নেতাদের গ্রেপ্তারের ফলে এই আন্দোলন অনেকটাই স্বতঃস্ফূর্ত এবং হিংসাত্মক রূপ নেয়। সাধারণ মানুষ নিজেরাই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়, টেলিগ্রাফের তার কেটে দেওয়া হয় এবং সরকারি সম্পত্তি আক্রমণ করা হয়। সাতারা, মেদিনীপুরের মতো কিছু জায়গায় সমান্তরাল 'জাতীয় সরকার' প্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত নির্মমভাবে এই আন্দোলন দমন করে। গুলি চালানো, লাঠিচার্জ এবং গণ-গ্রেপ্তার ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। প্রায় এক লক্ষ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। আপাতদৃষ্টিতে এই আন্দোলন ব্যর্থ মনে হলেও, 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন ব্রিটিশদের বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, ভারতে তাদের শাসনের দিন শেষ হয়ে এসেছে। এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে, ভারতীয়রা স্বাধীনতার জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত এবং তাদের আর দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

দেশভাগ এবং স্বাধীনতার অন্তিম পর্ব (১৯৪৫-৪৭)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ১৯৪৫ সালে শেষ হয় এবং ব্রিটেনে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসে, যারা ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। যুদ্ধের ফলে ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং তাদের পক্ষে বিশাল ভারতীয় সাম্রাজ্য ধরে রাখা আর সম্ভব ছিল না।

এই সময় ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত জটিল হয়ে ওঠে। মুসলিম লিগ, মহম্মদ আলি জিন্নার নেতৃত্বে, মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র 'পাকিস্তান'-এর দাবিতে অটল ছিল। কংগ্রেস অখণ্ড ভারতের পক্ষে থাকলেও, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছিল।

১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা তৈরি করতে 'ক্যাবিনেট মিশন' ভারতে পাঠায়। মিশনটি একটি অখণ্ড ভারতের মধ্যেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলিকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার একটি জটিল প্রস্তাব দেয়। কংগ্রেস এবং মুসলিম লিগ উভয়ই প্রাথমিকভাবে এটি মেনে নিলেও, পরে ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয় এবং আলোচনা ভেঙে যায়।

এর প্রতিক্রিয়ায়, জিন্নাহ 'পাকিস্তান' আদায়ের জন্য ১৬ই আগস্ট, ১৯৪৬-কে 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' বা 'Direct Action Day' হিসেবে ঘোষণা করেন। এই দিন কলকাতায় ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়, যা 'The Great Calcutta Killings' নামে পরিচিত। এই হিংসা দ্রুত নোয়াখালী, বিহার এবং পাঞ্জাবে ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার নিরীহ হিন্দু ও মুসলমান এই দাঙ্গায় প্রাণ হারায়। গান্ধীজি এই হিংসায় অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং দাঙ্গা থামানোর জন্য একা নোয়াখালীর দাঙ্গাবিধ্বস্ত গ্রামগুলিতে পায়ে হেঁটে সফর করেন।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশভাগকে অনিবার্য হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের শেষ ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য 'মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা' তৈরি করেন, যেখানে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ উভয়ই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

অবশেষে, ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট, ভারত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। কিন্তু এই স্বাধীনতা এসেছিল এক ভয়াবহ মূল্যের বিনিময়ে - দেশভাগ এবং তার ফলস্বরূপ হওয়া ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম migration এবং সাম্প্রদায়িক হিংসা, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায় এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

ঐতিহাসিক সূত্র হিসেবে গান্ধীর জীবন

মহাত্মা গান্ধী এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সম্পর্কে জানতে ঐতিহাসিকরা বিভিন্ন ধরনের সূত্রের উপর নির্ভর করেন। এই অধ্যায়টি বুঝতে হলে সেই সূত্রগুলি সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন:

  • সরকারি নথি: ঔপনিবেশিক সরকারের বিভিন্ন গোপন রিপোর্ট, পুলিশি ফাইল, চিঠিপত্র এবং সরকারি আধিকারিকদের ডায়েরি সেই সময়ের ব্রিটিশ দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে সাহায্য করে। এগুলি প্রায়শই জাতীয়তাবাদী নেতাদের কার্যকলাপের উপর নজরদারি চালাত।
  • ব্যক্তিগত লেখা: মহাত্মা গান্ধীর নিজের লেখা তাঁর আত্মজীবনী 'দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ', তাঁর সম্পাদিত সংবাদপত্র 'হরিজন' ও 'ইয়ং ইন্ডিয়া', এবং তাঁর লেখা অগণিত চিঠি এই সময়ের ইতিহাসের অমূল্য উৎস। এগুলি থেকে তাঁর চিন্তাভাবনা, কৌশল এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি সম্পর্কে জানা যায়। জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেলের মতো অন্যান্য নেতাদের লেখা এবং ডায়েরিও গুরুত্বপূর্ণ।
  • সংবাদপত্র: সেই সময়ের ভারতীয় এবং ব্রিটিশ সংবাদপত্রগুলি বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ এবং জনমত বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, এগুলি ব্যবহার করার সময় সম্পাদকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়।
  • আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ: আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী সাধারণ কর্মীদের লেখা আত্মজীবনী ও স্মৃতিচারণ তৃণমূল স্তরের অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতির এক ঝলক দেয়, যা সরকারি বা নেতাদের লেখা থেকে পাওয়া যায় না।

এই সমস্ত সূত্রকে একত্রিত ও তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করেই ঐতিহাসিকরা গান্ধীজির নেতৃত্বে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি সামগ্রিক চিত্র তৈরি করার চেষ্টা করেন।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: গান্ধীজি কেন লবণকে আইন অমান্য আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন?

উত্তর: গান্ধীজি লবণকে প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন কারণ এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল ছিল। প্রথমত, লবণ ছিল একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যা ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকলের প্রয়োজন হতো। দ্বিতীয়ত, ব্রিটিশ সরকার লবণ তৈরি ও বিক্রির উপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল এবং এর ওপর কর বসিয়েছিল। এই অন্যায্য কর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলত। তাই লবণ করকে ঔপনিবেশিক শোষণের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা সহজ ছিল এবং এটি সহজেই সাধারণ মানুষকে আন্দোলনের সাথে যুক্ত করতে পেরেছিল।

প্রশ্ন ২: অসহযোগ আন্দোলন কেন হঠাৎ করে প্রত্যাহার করা হয়েছিল?

উত্তর: অসহযোগ আন্দোলন তার শীর্ষে থাকাকালীন ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তরপ্রদেশের চৌরি চৌরা নামক স্থানে একটি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে। সেখানে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিলের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করলে জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং একটি পুলিশ থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ২২ জন পুলিশকর্মী নিহত হন। মহাত্মা গান্ধী 'অহিংসা'-কে তাঁর আন্দোলনের মূল মন্ত্র বলে মনে করতেন। এই হিংসাত্মক ঘটনায় তিনি এতটাই মর্মাহত হয়েছিলেন যে, তিনি মনে করেন দেশবাসী এখনও অহিংস সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত নয়। তাই, অন্যান্য নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনটি প্রত্যাহার করে নেন।

প্রশ্ন ৩: 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন অন্যান্য আন্দোলন থেকে কীভাবে আলাদা ছিল?

উত্তর: 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলন পূর্ববর্তী আন্দোলনগুলির থেকে কয়েকটি দিক থেকে আলাদা ছিল। প্রথমত, এটি ছিল সবচেয়ে தீவிர এবং আপোসহীন আন্দোলন। গান্ধীজি 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' (করব অথবা মরব) স্লোগানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ এবং তাৎক্ষণিক স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের শুরুতেই সমস্ত শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হওয়ায় এটি মূলত একটি 'নেতাবিহীন' আন্দোলনে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তৃতীয়ত, এই আন্দোলনে হিংসার প্রয়োগ আগের আন্দোলনগুলির তুলনায় অনেক বেশি ছিল, যেখানে সরকারি সম্পত্তি আক্রমণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা একটি সাধারণ কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।সারসংক্ষেপ

এই অধ্যায় থেকে আমরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়টি সম্পর্কে জানতে পারি। এখানে কয়েকটি মূল বিষয় তুলে ধরা হলো যা মনে রাখা জরুরি:

  • গান্ধীজির প্রত্যাবর্তন (১৯১৫): দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসে গান্ধীজি ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করেন, যা ছিল সাধারণ মানুষকে কেন্দ্র করে।
  • প্রাথমিক সত্যাগ্রহ (১৯১৭-১৮): চম্পারণ, আমেদাবাদ এবং খেড়ার সাফল্য তাঁকে একজন গণনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর অহিংসার কৌশলকে জনপ্রিয় করে তোলে।
  • অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২): এটি ছিল প্রথম সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলন, যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া। চৌরি চৌরা ঘটনার কারণে এটি প্রত্যাহার করা হয়।
  • আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪): ডান্ডি মার্চের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন লবণ আইনের মতো একটি অন্যায্য আইনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
  • ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' মন্ত্রে দীক্ষিত এই আন্দোলন ছিল স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত আঘাত, যা ব্রিটিশদের বুঝিয়ে দেয় যে তাদের ভারত ছাড়তেই হবে।
  • দেশভাগ ও স্বাধীনতা (১৯৪৭): দীর্ঘ সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু তা দেশভাগের ভয়াবহ যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে।
  • গান্ধীজির দর্শন: 'সত্যাগ্রহ' (সত্যের জন্য आग्रह) এবং 'অহিংসা' ছিল গান্ধীজির আন্দোলনের মূল অস্ত্র, যা শুধুমাত্র ভারতের নয়, সারা বিশ্বের মুক্তি আন্দোলনকে অনুপ্রাণিত করেছে।