প্রেম আর ভালোবাসা নিয়ে কতই না অদ্ভুত গল্প আমরা শুনেছি! কেউ তাজমহল গড়ে, কেউ পাহাড় কাটে, আবার কেউবা ভালোবেসে বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু যদি বলি, ভালোবাসার ইতিহাসে এমন এক সময় ছিল যখন প্রেয়সীর মন জয় করতে বা সংসারের খরচ চালাতে দিতে হতো এক অদ্ভুত ট্যাক্স? তাও আবার এমন এক জিনিসের ওপর, যা শুনলে আপনি হয়তো হাসবেন বা অবাক হবেন! চলুন, আজ সেই মজার ইতিহাসে ডুব দেওয়া যাক।
প্রেম যখন পয়সার ব্যাপার: এক অদ্ভুত ট্যাক্সের গল্প
আজকাল আমরা ভালোবাসার মানুষকে দামি উপহার দিই, সুন্দর জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাই। কিন্তু প্রাচীন রোমে ব্যাপারটা এতটাও সহজ ছিল না। সেখানে ভালোবাসার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল এক অদ্ভুত অর্থনীতি। এই গল্পটা রোমান সম্রাট ভেস্পাসিয়ানের (Vespasian) সময়ের, যিনি ৬৯ থেকে ৭৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। একটা বড় যুদ্ধের পর রোমের রাজকোষ প্রায় খালি হয়ে গিয়েছিল। তখন সম্রাট এমন এক জিনিসের ওপর ট্যাক্স বসালেন, যা ছাড়া রোমানদের চলতই না, অথচ জিনিসটা ছিল অতি সাধারণ ও অপ্রচলিত।
কী সেই জিনিস? মানুষের মূত্র! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। আজ যা আমাদের কাছে বর্জ্য, প্রাচীন রোমে তা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। চামড়া শিল্প থেকে শুরু করে কাপড় পরিষ্কার করা, এমনকি দাঁত সাদা করার জন্যও এর ব্যবহার ছিল! ভাবুন তো, আপনার ভালোবাসার মানুষটির জন্য একটি সুন্দর পোশাক কিনবেন বা তার জন্য কোনো চামড়ার জিনিস বানাবেন, আর তার জন্য আপনাকে মূত্রের ওপর ট্যাক্স দিতে হচ্ছে! ব্যাপারটা হাস্যকর শোনালেও এটাই ছিল তখনকার সত্যি।
জানেন কি? প্রাচীন রোমে সম্রাট ভেস্পাসিয়ান জনসাধারণের মূত্রের ওপর ট্যাক্স বসিয়েছিলেন, যা দিয়ে তিনি যুদ্ধের পর খালি হয়ে যাওয়া রাজকোষ পুনরায় ভর্তি করেন। এই অর্থ পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনযাত্রা এবং ভালোবাসার প্রকাশকেও প্রভাবিত করেছিল।
আসলে, রোমের পাবলিক টয়লেট থেকে মূত্র সংগ্রহ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা কিনতেন। আর সম্রাট সেই বিক্রির ওপরেই ট্যাক্স বসিয়েছিলেন। এই টাকা দিয়েই তিনি রোমকে নতুন করে সাজিয়ে তুলেছিলেন, যার মধ্যে ছিল ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে থাকা কলোসিয়ামের মতো স্থাপত্যও। তাই বলা যেতেই পারে, হাজারো প্রেমকাহিনীর সাক্ষী থাকা এই কলোসিয়ামের পেছনেও হয়তো লুকিয়ে আছে সেই অদ্ভুত ট্যাক্সের গল্প।
মজার ব্যাপার হলো, সম্রাটের নিজের ছেলেও এই ট্যাক্স নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার কাছে এটা খুব নোংরা একটা উপায় বলে মনে হয়েছিল। তখন সম্রাট ভেস্পাসিয়ান ছেলের সামনে একটা সোনার মুদ্রা ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "দেখো তো, এটা থেকে কোনো দুর্গন্ধ আসছে কিনা?" ছেলে 'না' বলায়, সম্রাট হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, "অথচ এটা মূত্র থেকেই এসেছে।" এই ঘটনা থেকেই একটি বিখ্যাত প্রবাদ চালু হয় - 'Pecunia non olet' অর্থাৎ, "টাকার কোনো গন্ধ হয় না।"
প্রেমের প্রকাশ হয়তো বদলে যায়, কিন্তু তার পেছনের আবেগটা একই থাকে। আজ হয়তো আমাদের মূত্রের ওপর ট্যাক্স দিতে হয় না, কিন্তু ভালোবাসার মানুষটির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমরাও তো কত কিছুই করি! প্রাচীন রোমের সেই প্রেমিকদের কথা ভাবুন, যারা হয়তো প্রেয়সীর জন্য একটি সুন্দর টোগা (এক ধরনের পোশাক) কেনার সময় ভাবত, "এই ভালোবাসার দামটা তো একটু বেশিই!"
সুতরাং, পরেরবার যখন ভালোবাসার জন্য কোনো খরচ করবেন, তখন একবার প্রাচীন রোমের কথা ভেবে হাসতেই পারেন। কারণ ভালোবাসার জন্য এমন অদ্ভুত ট্যাক্স দেওয়ার গল্প তো আর প্রতিদিন শোনা যায় না!