আচ্ছা, একটা ছোট্ট প্রশ্ন করি। আপনার কি মনে হয়, ভালোবাসার প্রকাশে 'X' চিহ্নের ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়েছে? প্রেমপত্র হোক বা সাধারণ মেসেজ, আমরা প্রায়শই 'XOXO' লিখে থাকি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন এই 'X' মানে চুমু? আর 'O' মানেই বা কেন আলিঙ্গন? চলুন, আজ এক মজাদার আর রোমান্টিক গল্পে ডুব দেওয়া যাক!
চিঠির কোণে লুকিয়ে থাকা চুমু
ভাবছেন, এটা তো নতুন কালের চল! কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই 'X' চিহ্নের পেছনের গল্পটা বেশ পুরনো। মধ্যযুগে, যখন প্রায় কেউই অক্ষরজ্ঞান রাখতো না, তখন যারা স্বাক্ষর করতে পারতেন না, তারা দলিলের উপর 'X' চিহ্ন এঁকে দিতেন। এই 'X' শুধু একটি অক্ষর ছিল না, বরং এটি ছিল তাদের সততা এবং বিশ্বাসের প্রতীক। আর জানেন তো, তখন এই 'X' চিহ্নে চুম্বন করে তারা প্রমাণ করতেন যে তারা যা করছেন, তা সম্পূর্ণ আন্তরিক। ভাবুন তো, এক প্রকার ‘সিল উইথ আ কিস’! এই 'X' আসলে খ্রিস্টের নামের প্রথম দুটি গ্রীক অক্ষর 'Chi' এবং 'Rho'-এর প্রতীক ছিল, যা দেখতে প্রায় 'X'-এর মতোই।
তাহলে, 'X' শুধু সততার প্রতীক ছিল, যা পরে প্রেমের চুম্বনে রূপান্তরিত হলো! ভাবা যায়?
অনেকে আবার মনে করেন, 'X' দেখতে অনেকটা ঠোঁট মিলিয়ে চুমু খাওয়ার ভঙ্গির মতো। কে জানে, হয়তো দুটো কারণই সত্যি! যাই হোক না কেন, ১৭০০ সালের দিকেই চিঠিপত্রে 'X' চিহ্ন চুম্বনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হতে শুরু করে। আর 'O' এর কথা? ওটা কেন আলিঙ্গন বোঝায়, তার সঠিক কারণ কেউ জানে না। কেউ বলেন, 'O' দেখতে অনেকটা দু'হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরার মতো, আবার কেউ বলেন, এটা হয়তো 'X'-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে, যেমনটা আমরা 'টিক-ট্যাক-টো' খেলায় দেখি।
তবে একটা ব্যাপার বেশ মজার, এই 'XOXO' চলটা কিন্তু তেমন পুরনো নয়, ষাটের দশকে এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। আর 'গসিপ গার্ল'-এর মতো সিরিজগুলো তো একে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে!
সুতরাং, পরের বার যখন আপনি 'XOXO' লিখবেন, মনে রাখবেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ, মজাদার এবং রোমান্টিক ইতিহাস। শুধু একটা চিহ্ন নয়, এটা যেন এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া ভালোবাসার এক নীরব বার্তা!