ভালোবাসার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে! কেউ তাজমহল গড়ে, কেউবা জীবন দিয়ে দেয়। কিন্তু এমনও কি হতে পারে যে ভালোবাসার খাতিরে কেউ নিজের সন্তানকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়? শুনতে অবাক লাগলেও, প্রাণীজগতে এমন এক মা আছে, যার ভালোবাসার ধরণটা একটু অন্যরকম। আর সে হলো ক্যুওকা (Quokka), পৃথিবীর সবথেকে সুখী প্রাণী হিসেবে পরিচিত।

পৃথিবীর সবথেকে সুখী প্রাণী!

অস্ট্রেলিয়ার রটনেস্ট দ্বীপে এদের বাস। ক্যাঙ্গারুর মতো দেখতে এই প্রাণীগুলোর মুখে সবসময় যেন একটা হাসি লেগেই থাকে। মানুষের সাথে এদের বন্ধুত্বও বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে এই হাসিখুশি মুখের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত সত্যি, যা জানলে আপনি চমকে উঠবেন।

বিপদের সময়, মা ক্যুওকা তার থলি থেকে বাচ্চাকে বের করে শিকারী প্রাণীর সামনে ফেলে দেয়, যাতে নিজে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

ভাবছেন, এ কেমন মা? আসলে, এর পেছনেও আছে এক গভীর রহস্য। ক্যুওকাদের গর্ভধারণ প্রক্রিয়া খুবই অদ্ভুত। একটি বাচ্চা জন্মের পরপরই, মা ক্যুওকা আবার গর্ভধারণ করতে পারে। কিন্তু নতুন ভ্রূণটি তখন তার গর্ভে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘এম্ব্রায়োনিক ডায়াপজ’ (Embryonic diapause) বলা হয়।

যদি থলিতে থাকা বাচ্চাটি কোনো কারণে মারা যায়, তাহলে গর্ভের ওই নিষ্ক্রিয় ভ্রূণটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং নতুন বাচ্চার জন্ম হয়। অর্থাৎ, মা ক্যুওকা জানে যে, একটি বাচ্চাকে হারালেও তার কাছে আরেকটি সন্তান আছে। তাই, কঠিন পরিস্থিতিতে সে নিজেকে বাঁচিয়ে নতুন প্রজন্মকে পৃথিবীতে আনার পথ বেছে নেয়।

এই অদ্ভুত কৌশলটি তাদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। যদিও প্রথমবার শুনলে মনে হতে পারে যে এটি এক নির্মম সত্য, কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম বড়ই অদ্ভুত। ক্যুওকার এই গল্প আমাদের শেখায় যে, ভালোবাসা মানে শুধু আগলে রাখা নয়, কখনও কখনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।