ঘূর্ণিঝড় 'মনথা'-র অশনি সংকেত, ছট ও জগদ্ধাত্রী পূজায় দুর্যোগের আশঙ্কা
কলকাতা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫: উৎসবের মরশুমের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হওয়া এক নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড় 'মনথা'-তে পরিণত হতে পারে। এই খবরের জেরে রাজ্য প্রশাসন যেমন তৎপর হয়েছে, তেমনই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়েছে উদ্বেগ।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি শনিবার সকালে আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে এটি পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছে এবং ক্রমশ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি ২৬ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং ২৭ অক্টোবর সকালের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। এর প্রভাবে আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
এই দুর্যোগের পূর্বাভাস এমন এক সময়ে এসেছে যখন রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ছট পুজো। শনিবার 'নহায় খाय' مراسمের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়েছে। আগামী ২৭ এবং ২৮ অক্টোবর ঘাটে অস্তগামী ও উদীয়মান সূর্যকে অর্ঘ্যদানের প্রধান পর্ব রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেই সময়ে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুধু ছটই নয়, এরপরেই রয়েছে জগদ্ধাত্রী পুজো, সেই উৎসবেও দুর্যোগের ছায়া পড়তে পারে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে এবং যাঁরা মাঝসমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের ২৭ তারিখের মধ্যে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া নবান্ন, বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে সাম্প্রতিক কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হল নবান্ন। শনিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব এক জরুরি বৈঠকের ডাক দেন, যেখানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ, সুপার, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক গাফিলতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে এক নাবালিকার শ্লীলতাহানি এবং উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে নিগ্রহের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রশাসন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালগুলিতে থাকা সিসিটিভির নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বহু সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে সেগুলি সারানোর জন্য খরচের হিসেব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নজরদারি ঠিক মতো হলে কী ভাবে এসএসকেএমে মহিলা শৌচালয়ে পুরুষ ঢুকে পড়ল?"
বৈঠকে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং তাঁদের জন্য সচিত্র পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তারক্ষীদের পোশাক বাইরেও কিনতে পাওয়া যায়, তাই পরিচয়পত্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন যে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করবে না, এদিনের বৈঠক থেকে সেই কড়া বার্তাই দেওয়া হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
ভোটের প্রস্তুতি: কলকাতাকে পাখির চোখ করে সাংগঠনিক বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি
সামনের নির্বাচনকে লক্ষ্য করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। বিশেষ করে কলকাতা এবং তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে দলের সংগঠনকে মজবুত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে গেরুয়া শিবির। এই লক্ষ্যেই শুক্রবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনশল এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপি সূত্রে খবর, বৈঠকে মূল আলোচনার বিষয় ছিল কলকাতা এবং তৎসংলগ্ন চারটি সাংগঠনিক জেলার (উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, দমদম ও যাদবপুর) ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের 'ভোট ম্যাপিং'। বিগত নির্বাচনগুলিতে এই কেন্দ্রগুলিতে দলের ফলাফল, তৃণমূলের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান এবং বিভিন্ন এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়। বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে যে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের জন্য কলকাতায় ভালো ফল করা অপরিহার্য।
বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বৈঠকের সংখ্যাও তত বাড়বে। এই ধরনের কৌশল নির্ধারণী বৈঠক প্রমাণ করে যে, শহরাঞ্চলে দলের শক্তি বাড়াতে এবং মানুষের কাছে পৌঁছতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে বিজেপি। লোকসভা ভোটে কলকাতার কিছু ওয়ার্ডে বিজেপির এগিয়ে থাকাটাকেও তাঁরা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন এবং সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়েই আগামী দিনের রণকৌশল তৈরি করতে চাইছেন।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)