রাজ্য রাজনীতিতে সিপিআইএমের প্রত্যাবর্তন? কোচবিহার থেকে শুরু 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'

কলকাতা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫: বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপালো ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)। শনিবার, ২৯শে নভেম্বর, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছে তাদের বহুচর্চিত 'বাংলা বাঁচাও যাত্রা'। এই যাত্রার সূচনা করেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রায় ১১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই যাত্রা রাজ্যের বিভিন্ন জেলার মধ্যে দিয়ে গিয়ে শেষ হবে ১৭ই ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে।

দলীয় সূত্রে খবর, এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যের বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের 'জনবিরোধী' নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একত্রিত করা। সিপিআইএম নেতারা জানিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, শিল্পে বিনিয়োগের অভাব এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির মতো বিষয়গুলিকে তারা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন। মহম্মদ সেলিম তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের স্তরে নেমে এসেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে আরএসএস-বিজেপির প্রবেশকে সক্ষম করেছেন। তিনি আরও বলেন, এই যাত্রা শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং রাজ্যের হারানো গৌরব এবং আত্মনির্ভর বাংলা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, যেখান থেকে তরুণদের কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না।

সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে বামেদের ভোট শতাংশ তলানিতে এসে ঠেকলেও, এই যাত্রাকে ঘিরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোচবিহারের মতো জেলায়, যেখানে বামেদের সংগঠন অনেকটাই দুর্বল, সেখানেও যাত্রার সূচনাকালে উল্লেখযোগ্য জমায়েত হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল এবং বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ের আবহে এই যাত্রা বামেদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ 'অ্যাসিড টেস্ট'। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার উপরেই নির্ভর করছে রাজ্যের রাজনীতিতে তাদের ভবিষ্যৎ প্রাসঙ্গিকতা।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

পর্যটন শিল্পে বড় সাফল্য: বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দেশে দ্বিতীয় স্থান পেল পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় সুখবর। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র দেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের প্রকাশিত 'ইন্ডিয়া ট্যুরিজম ডেটা কম্পেন্ডিয়াম ২০২৫' শীর্ষক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে রাজ্যবাসী এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটেছে, যা মহারাষ্ট্রের (৩৭ লক্ষ) পরেই সর্বোচ্চ। এই সাফল্যকে কোভিড-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের এক বিরাট पुनरुत्थान হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যটন দফতরের আধিকারিকদের মতে, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একাধিক পরিকল্পিত উদ্যোগ। বিশেষ করে, কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ'-এর তকমা পাওয়ার পর থেকে উৎসব পর্যটনে এক নতুন জোয়ার এসেছে। গত কয়েক বছরে দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

রাজ্য সরকার বিগত কয়েক বছরে পাহাড়, জঙ্গল এবং সমুদ্রকে ঘিরে একাধিক নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি হোম-স্টে নীতির উপর জোর দিয়েছে। দার্জিলিংয়ের লামাহাটার মতো স্বল্প পরিচিত স্থানগুলিও আজ আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, উৎসব পর্যটনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের পরিষেবা প্রদানের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। এই স্বীকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে আরও গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

আবহাওয়ার খবর: ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়ার' প্রভাবে রাজ্যে উধাও শীতের আমেজ

কলকাতা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫: নভেম্বরের শেষেও শীতের দেখা নেই। বরং তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এর কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়ার'। যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না এবং এর ল্যান্ডফল করার সম্ভাবনাও নেই, তবে এর পরোক্ষ প্রভাবেই রাজ্যে উত্তুরে হাওয়া প্রবেশে বাধা পাচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি তামিলনাড়ু-পুদুচেরি উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হবে। এর ফলে কলকাতায় রবিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা প্রায় স্বাভাবিক। আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে গেলে, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি কমতে পারে এবং রাজ্যে আবার শীতের আমেজ ফিরে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত রাজ্যের সর্বত্র শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে এবং বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)