ভালোবাসার উপহার: শিখুন বৃশ্চিক মাছির (Scorpionfly) কাছে!

প্রেমের জগতে উপহারের গুরুত্ব কতখানি, তা আমরা সবাই জানি। কখনও দামী হিরের আংটি, কখনও বা একগুচ্ছ গোলাপ—ভালোবাসার মানুষের মন জয় করতে আমরা কত কিছুই না করি! কিন্তু আপনি কি জানেন, ভালোবাসার এই উপহার দেওয়ার প্রথা শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই? প্রাণী জগতেও এর চল রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা এতটাই অদ্ভুত যে শুনলে আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না।

আজ আপনাদের শোনাব এমনই এক মজাদার প্রেমকাহিনী। আমাদের গল্পের নায়ক কোনো রাজপুত্র নয়, বরং এক ছোট্ট পোকা, যার নাম ‘বৃশ্চিক মাছি’ বা ‘স্করপিয়নফ্লাই’ (Scorpionfly)। দেখতে যতই অদ্ভুত হোক না কেন, প্রেম নিবেদনের কায়দায় সে কিন্তু অনেককেই টেক্কা দিতে পারে!

উপহার ছাড়া ভালোবাসা? নৈব নৈব চ!

মানুষের জগতে যেমন ‘ডেট’-এ যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নিতে হয়, বৃশ্চিক মাছিদের জগতেও ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই। পুরুষ বৃশ্চিক মাছি যখন কোনো নারী সঙ্গীর মন জয় করতে চায়, তাকে রীতিমতো একটি সুন্দর উপহার খুঁজে বের করতে হয়। তবে সেই উপহার গোলাপ বা চকোলেট নয়।

পুরুষ বৃশ্চিক মাছি তার প্রেমিকাকে উপহার হিসেবে দেয় সদ্য শিকার করা একটি মৃত পোকামাকড় অথবা নিজের তৈরি করা লালার একটি দলা!

ভাবছেন, এ আবার কেমন উপহার? অদ্ভুত শোনালেও এটাই সত্যি। পুরুষ মাছিটি তার সঙ্গীর জন্য পুষ্টিকর এবং লোভনীয় একটি শিকার ধরে আনে। এটা হতে পারে অন্য কোনো মাছি বা ছোট পোকামাকড়। উপহার যত বড় এবংน่าสนใจ হয়, প্রেমিকার মন পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেড়ে যায়।

উপহার যখন ভাগ্য নির্ধারণ করে

নারী বৃশ্চিক মাছি কিন্তু মোটেই সহজে পটে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে বেশ খুঁতখুঁতে স্বভাবের। পুরুষ সঙ্গীর আনা উপহার তার পছন্দ না হলে সে তৎক্ষণাৎ তাকে প্রত্যাখ্যান করে। উপহার যদি ছোট হয় বা তার মনের মতো না হয়, তাহলে সে পুরুষ মাছিটিকে কোনো পাত্তাই দেয় না।

অনেক সময় দেখা যায়, পুরুষ বৃশ্চিক মাছি শিকার ধরতে না পারলে এক অভিনব বুদ্ধি বের করে। সে নিজের লালাগ্রন্থি থেকে এক ধরনের পুষ্টিকর লালার বল তৈরি করে এবং সেটিই প্রেমিকার সামনে উপহার হিসেবে তুলে ধরে। তবে মৃত পোকামাকড়ের তুলনায় এই লালার বলের কদর কিছুটা কম। তাই ভালো শিকার ধরতে পারাটা তার জন্য এক প্রকার প্রেস্টিজের লড়াই।

এই উপহার দেওয়ার কারণটা কিন্তু শুধু রোমান্টিক নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর বায়োলজিক্যাল উদ্দেশ্য। নারী মাছিটি যখন উপহারটি খেতে ব্যস্ত থাকে, সেই সুযোগে পুরুষ মাছিটি তার সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ পায়। উপহার যত বড় হয়, নারী তত বেশি সময় ধরে খায়, আর পুরুষটিও তত বেশি সময় পায়। এর ফলে তাদের সফল মিলনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাছাড়া, এই পুষ্টিকর উপহারটি নারী মাছিকে ডিম উৎপাদনেও সাহায্য করে।

অনেক সময় পুরুষ বৃশ্চিক মাছিরা অন্যের শিকার চুরি করতেও দ্বিধা করে না। এমনকি মাকড়সার জাল থেকে শিকার চুরি করার মতো দুঃসাহসিক কাজও তারা করে ফেলে, শুধুমাত্র প্রেমিকাকে একটি ভালো উপহার দেওয়ার জন্য।

ভালোবাসার নানা রূপ

বৃশ্চিক মাছির এই অদ্ভুত প্রেমকাহিনী আমাদের শেখায় যে ভালোবাসার প্রকাশ সব জায়গায় একরকম হয় না। যা আমাদের কাছে অদ্ভুত বা হাস্যকর মনে হতে পারে, সেটাই হয়তো অন্য কোনো প্রাণীর জগতে টিকে থাকার এবং ভালোবাসার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

পুরুষ বৃশ্চিক মাছির এই চেষ্টা, তার সঙ্গীর জন্য সেরা উপহার খুঁজে আনার আকুতি, আর প্রত্যাখ্যানের ভয়—এই সবকিছু মিলিয়ে তাদের প্রেমকাহিনীটা বেশ নাটকীয়, তাই না? পরের বার যখন ভালোবাসার উপহার নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন, তখন একবার এই ছোট্ট পোকাটির কথা ভেবে দেখতে পারেন। হয়তো ভালোবাসার জন্য তার এই অদ্ভুত প্রচেষ্টার কাছে আপনার দেওয়া উপহারও ম্লান মনে হতে পারে!