কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার
কলকাতা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫: এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়ে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর থেকে দীর্ঘদিনের আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়, যার ফলে এখন থেকে রাজ্য পুলিশ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়াই এফআইআর (FIR) দায়ের করতে পারবে। তবে একই সাথে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া ১৫টি এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে, যা বিরোধী দলনেতার জন্য একটি বড় স্বস্তি।
২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ শুভেন্দু অধিকারীকে এই রক্ষাকবচ প্রদান করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর দায়ের করা যাবে না। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত শুক্রবারের রায়ে পর্যবেক্ষণ করেন যে, কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে পারে না। এই রায়কে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই নিজেদের জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "এই রায় আমাদের দীর্ঘদিনের দাবিকেই মান্যতা দিল।" অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে তিনি আদালতের রায়ে খুশি এবং তিনি আইনি পথেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আদালত মানিকতলা থানা সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিটি দলে এসপি পদমর্যাদার আধিকারিক থাকবেন এবং সিবিআই ও রাজ্য পুলিশের ছয়জন করে সদস্য থাকতে পারবেন। এই রায়ের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এর প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেদিকেই সকলের নজর থাকবে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ, সপ্তাহান্তে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
আলিপুর, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫: পুজোর ঠিক পরেই রাজ্যে আবার দুর্যোগের ভ্রূকুটি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে, যা ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করছে। আবহবিদদের মতে, এই নিম্নচাপটি আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে এবং ২৬ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। ২৭ অক্টোবর, সোমবার সকালের মধ্যে এটি ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনও পর্যন্ত এই সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ঠিক কোনদিকে হবে, তা স্পষ্ট নয়। তবে এর প্রভাবে সপ্তাহান্ত থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বদল আসতে পারে। ২৬ অক্টোবর থেকে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে, বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৮ ও ২৯ অক্টোবর নাগাদ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে এবং কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টিরও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
এই পূর্বাভাসের পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের উপকূলে ফিরে আসার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখছে এবং উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপ: টোটো চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক
কলকাতা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫: রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি ঘোষণা করা হয়েছে যে, রেজিস্ট্রেশনের পর এবার থেকে সমস্ত টোটো চালকদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের ক্রমবর্ধমান টোটো চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
পরিবহন দফতর সূত্রে খবর, গত ১৩ই অক্টোবর থেকে রাজ্যজুড়ে টোটো রেজিস্ট্রেশনের জন্য একটি বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন অনলাইন পোর্টালও চালু করা হয়েছে, যেখানে টোটো মালিকদের তাদের গাড়ির যাবতীয় তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ হলে প্রতিটি টোটোকে একটি বিশেষ এনরোলমেন্ট নম্বর (TTEN) এবং একটি QR কোড দেওয়া হবে। এই পর্ব শেষ হলেই চালকদের লাইসেন্স প্রদানের কাজ শুরু হবে।
এই সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন চালকদের একটি পেশাগত পরিচয় তৈরি হবে, তেমনই অসুরক্ষিত এবং পুরনো মডেলের টোটোগুলিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিরাপদ ই-রিকশা চালু করার পথ সুগম হবে। যদিও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই পদক্ষেপকে শুধুমাত্র টাকা তোলার কৌশল বলে কটাক্ষ করেছেন। তবে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই নিয়মের ফলে রাজ্যের পরিবহন ব্যবস্থা আরও সুসংহত এবং নিরাপদ হবে, যা যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্যই লাভজনক।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)