রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ: ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী-কমিশন সংঘাত
কলকাতা, ২১ নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের বিশেষ ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াটিকে 'বিশৃঙ্খল' এবং 'জবরদস্তিমূলক' বলে অভিহিত করে অবিলম্বে তা বন্ধ করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে। বিরোধী দল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণ বলে সমালোচনা করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাঁদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই কঠিন কাজে নামানো হয়েছে। এই চাপের কারণেই জলপাইগুড়ির মাল ব্লকে শান্তি মুনি এক্কা নামে একজন বিএলও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন এবং আরও একজন বিএলও হুগলি জেলায় সেরিব্রাল অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মতে, এই অব্যবস্থাপনার ফলস্বরূপ বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার এবং ভুল নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য নির্বাচন আধিকারিক জানিয়েছেন যে সমস্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত ভারতের নির্বাচন কমিশনই নিয়ে থাকে এবং রাজ্যে ১০০ শতাংশ গণনা ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিকে 'সাংবিধানিক সংস্থার উপর সরাসরি আক্রমণ' বলে মন্তব্য করেছেন। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস বেআইনি ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
কলকাতা হাইকোর্টে নজিরবিহীন পরিস্থিতি: পুলিশের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের কর্মবিরতি
কলকাতা, ২১ নভেম্বর, ২০২৫: কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের 'অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন' এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা এক নজিরবিহীন কর্মবিরতির ডাক দেন। বার অ্যাসোসিয়েশনের ১৫০ জনেরও বেশি সদস্য এই কর্মবিরতিতে অংশ নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া থেকে নিজেদের বিরত রাখেন। তাঁদের অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের একাংশ আইনজীবীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত খারাপ ব্যবহার করছেন এবং তাঁদের কাজে বাধা দিচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, যখন গার্ডেনরিচ থানার পাঁচজন পুলিশকর্মী আইনজীবী বিনয় সাউ এবং তাঁর মক্কেলকে হাইকোর্ট চত্বরেই হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও গড়িয়াহাট থানা এলাকায় একজন ট্রাফিক সার্জেন্টের বিরুদ্ধেও এক আইনজীবীকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদেই আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে চিঠি দিয়ে কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিআইজি-কে তলব করার অনুরোধ জানানো হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বৃহস্পতিবার বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাঁদের শুক্রবার থেকে কাজে ফেরার অনুরোধ জানান। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাইকোর্ট প্রশাসন ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশকর্মীকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। প্রধান বিচারপতির আশ্বাসের পর আইনজীবীরা শুক্রবার সকালে একটি সাধারণ সভা করে তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করবেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় হাইকোর্ট এবং লালবাজারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
উত্তরবঙ্গের চা বাগান সংকট: নতুন শ্রম কোড কার্যকর না হওয়ায় বঞ্চনার অভিযোগে সরব বিজেপি
শিলিগুড়ি, ২১ নভেম্বর, ২০২৫: উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে শ্রমিকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে এবং নতুন শ্রম কোড কার্যকর না করার জন্য রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এনেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপির নেতা সুকান্ত মজুমদার বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার চারটি শ্রম কোডের খসড়া নিয়মাবলী প্রকাশ করা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তা কার্যকর করতে ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে।
শ্রী মজুমদার দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এই শ্রম কোডগুলি লাগু হতে দিচ্ছে না, কারণ তা বাস্তবায়িত হলে চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি পাবে এবং তাঁদের কাজের পরিবেশের উন্নতি হবে, যা রাজ্যের শাসকদলের রাজনৈতিকভাবে সহায়ক নয়। তিনি আরও বলেন যে, উত্তরবঙ্গের ৪২টি চা বাগানে কোনও স্কুল নেই, প্রায় ১৯.৩ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই এবং মাত্র ৬০ শতাংশ বাগানে স্বাস্থ্য পরিষেবা উপলব্ধ। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়াও, দার্জিলিং পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের দাবিও জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক নয় এবং শুধুমাত্র অনুদান দিয়ে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ ছাড়তেও রাজ্য সরকার গড়িমসি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের এই বঞ্চনার বিষয়টিকে বিজেপি যে অন্যতম প্রধান নির্বাচনী ইস্যু করতে চলেছে, তা এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)