রাজ্যে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা তৃণমূলের

কলকাতা, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগে ফের একবার সরব হল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে রাজ্যকে আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দলের নেতাদের মতে, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের বন্যা পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসের পরেও রাজ্যকে কোনো প্রকার আর্থিক সহায়তা করা হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই মোদী-শাহ জুটি পশ্চিমবঙ্গের যুক্তরাষ্ট্রীয় তহবিলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাদের আরও অভিযোগ, চলতি বছরে বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল (SDRF) থেকে অন্যান্য রাজ্যগুলিকে অর্থ দেওয়া হলেও সেই তালিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গকে বাদ রাখা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টি এবং তার ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুইবার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যের তত্ত্বাবধান করেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (MGNREGA) সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা দুর্নীতির অভিযোগে আটকে রাখা হয়েছে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। শাসক দলের মতে, এটি রাজ্যের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর একটি "নিষ্ঠুর এবং পরিকল্পিত আক্রমণ"। এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

কালীপূজার আবহে কাকদ্বীপে প্রতিমা ভাঙচুর, তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়

কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কালীপূজার ঠিক পরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের সূর্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি কালী প্রতিমা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পাওয়ার পরেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ জনতা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাপূর্ণ হওয়ায় সাবধানে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে যে, অবরোধের কারণে অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল। বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও, তারা পুলিশের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে বলে অভিযোগ। এরপরেই পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে "ন্যূনতম বলপ্রয়োগ" করে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক রংও লেগেছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একে "তৃণমূল রাজ্যের প্রশাসনিক উদাসীনতা" বলে অভিযোগ করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করে অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যে মন্দিরে গ্রামবাসীরা বছরের পর বছর ধরে পূজা করে আসছেন, সেই মন্দির অপবিত্র করা হয়েছে এবং প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীপূজার পরবর্তী সময়েও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

উৎসবের পরেই বায়ুদূষণে জেরবার কলকাতা, কালীপূজার রাতে রেকর্ড গড়ল শহরতলি

কলকাতা: কালীপূজা এবং দীপাবলির উৎসবের পর কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলিতে বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মঙ্গলবার কালীপূজার রাতে লাগামছাড়া বাজি ফাটানোর ফলে শহর ও শহরতলির বাতাসে দূষণের সূচক (AQI) বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। বুধবার সকালেও শহরের আকাশ ধোঁয়াশায় ঢাকা ছিল এবং বাতাসে পোড়া বারুদের গন্ধ ছিল স্পষ্ট।

পরিবেশবিদদের মতে, নিষিদ্ধ শব্দবাজির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতার ফলেই প্রতি বছর উৎসবের পর এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কলকাতার গড় বায়ু মান সূচক (AQI) ১৬৫-এর কাছাকাছি থাকলেও, যাদবপুর (২০০), ভিক্টোরিয়া (২০২) সহ বিভিন্ন এলাকায় তা অনেকটাই বেশি ছিল। তবে বেসরকারি মতে, দূষণের মাত্রা আরও ভয়াবহ। জানা গেছে, কালীপূজার রাতে কোন্নগর এবং সোদপুরের মতো শহরতলির এলাকাগুলিতে দূষণ সূচক ৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি এবং অন্যান্য ফুসফুসজনিত রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। যদিও কলকাতা পুলিশ কালীপূজার আগে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছিল এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল, তবুও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরিবেশকর্মীরা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)