রাজ্যে ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-র আশঙ্কা, উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে চরম সতর্কতা

কলকাতা, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৫: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-তে পরিণত হয়েছে এবং এটি ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করেছে থাইল্যান্ড। এর প্রভাবে সোমবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যেই সমুদ্রে রয়েছেন, তাদের অবিলম্বে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রশাসন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছে এবং উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছে।

প্রশাসনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে

রাজ্য প্রশাসন ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছে। জেলা শাসকদের সঙ্গে নবান্নের তরফে നിരন্তর যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং ত্রাণ শিবিরগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কৃষকদের মাঠ থেকে পাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ ভারী বর্ষণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

নির্বাচনী প্রস্তুতি: ভোটার তালিকা সংশোধনে বিশেষ উদ্যোগ কমিশনের

সোমবারই পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের জন্য বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR)-এর নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এই মর্মে আগামীকাল বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকাকে নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১০ থেকে ১৫টি রাজ্যে এই কর্মসূচি শুরু হতে পারে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকা থেকে মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা। এর পাশাপাশি, একই ভোটারের নাম একাধিক জায়গায় থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সিপিআই(এম) তাদের টার্গেট করা আসনগুলির সমস্ত বুথে দলীয় এজেন্ট (BLA-2) নিয়োগ করার ওপর জোর দিয়েছে, যা নিয়ে তাদের রাজ্য কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলের তৎপরতা

অন্যদিকে, শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই এই তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বঙ্গ বিজেপিও ২০২৬ সালের নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতায় দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে দলের সংগঠনকে মজবুত করার রণকৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার আবহেই রাজ্যে ধীরে ধীরে ভোটের উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)

রাজপুরে কেন্দ্রীয় শুল্ক আধিকারিককে মারধর, উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় এক কেন্দ্রীয় শুল্ক আধিকারিকের উপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রাতে একটি অটোতে বাইকের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে প্রায় ৫০-৬০ জন লোক ওই আধিকারিকের ফ্ল্যাটে চড়াও হয় এবং তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। হামলায় তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তানও হেনস্থার শিকার হন বলে অভিযোগ।

এই ঘটনার পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাসকদলকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রবিবার আহত আধিকারিকের বাড়িতে যান এবং তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে এবং পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁর কথায়, "যদি একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাই সুরক্ষিত না হন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে কেউই নিরাপদ নন।" যদিও এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)