বিষয়ের ভূমিকা
দশম শ্রেণি বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায় 'রাসায়নিক বিক্রিয়া ও সমীকরণ' আমাদের চারপাশের পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়। আমরা প্রতিদিন লোহায় মরচে পড়া, দুধ থেকে দই তৈরি বা খাবার হজমের মতো যে ঘটনাগুলো দেখি, তার পেছনে কাজ করে রাসায়নিক বিক্রিয়া। এই অধ্যায়টি রসায়নের মূল ভিত্তি স্থাপন করে।
মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
১. রাসায়নিক বিক্রিয়া কী?
যখন এক বা একাধিক পদার্থ একে অপরের সাথে বিক্রিয়া করে নতুন ধর্মবিশিষ্ট নতুন পদার্থ গঠন করে, তখন তাকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। একে তীর চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
২. রাসায়নিক বিক্রিয়ার প্রকারভেদ
- সংযোজন বিক্রিয়া: দুই বা ততোধিক পদার্থ যুক্ত হয়ে একটি মাত্র নতুন পদার্থ তৈরি করে। যেমন: C + O2 = CO2।
- বিয়োজন বিক্রিয়া: একটি একক পদার্থ ভেঙে দুই বা ততোধিক পদার্থে পরিণত হয়। এটি তাপ, আলো বা বিদ্যুতের উপস্থিতিতে হতে পারে।
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: একটি মৌল অন্য একটি মৌলকে তার যৌগ থেকে সরিয়ে নিজে জায়গা নেয়।
- দ্বি-প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া: যৌগের মধ্যে আদান-প্রদান ঘটে নতুন যৌগ তৈরি হয়।
৩. জারণ ও বিজারণ
যে বিক্রিয়ায় অক্সিজেনের সংযোগ বা হাইড্রোজেনের অপসারণ ঘটে তা জারণ। আর অক্সিজেনের অপসারণ বা হাইড্রোজেনের সংযোগ ঘটলে তাকে বিজারণ বলে। জারণ-বিজারণ একসাথে ঘটলে তাকে 'রেডক্স' বিক্রিয়া বলে।
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
প্রশ্ন ১: রাসায়নিক সমীকরণ কেন সমতাকরণ করা প্রয়োজন?
উত্তর: ভরের নিত্যতা সূত্র মেনে চলার জন্য বিক্রিয়ক ও উৎপাদের পরমাণুর সংখ্যা সমান হতে হয়।
প্রশ্ন ২: জারণ বিক্রিয়ার একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর: কপার পাউডার গরম করলে তার ওপর কালো রঙের কপার অক্সাইডের স্তর পড়ে। এটি জারণের উদাহরণ।
প্রশ্ন ৩: ক্ষয় (Corrosion) কী?
উত্তর: ধাতু যখন আর্দ্রতা বা অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে এবং ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে ক্ষয় বলে।
সারসংক্ষেপ
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়।
- বিক্রিয়া সমতাকরণের মাধ্যমে ভরের নিত্যতা সূত্র পালিত হয়।
- বিক্রিয়ার ফলে তাপীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে (তাপমোচী বা তাপহারী)।
- দৈনন্দিন জীবনে জারণের ফলে খাদ্যের পচন ও ধাতুর ক্ষয় ঘটে।