এসআইআর ঘিরে দিল্লিতে তৃণমূল-নির্বাচন কমিশন তুমুল সংঘাত

নয়া দিল্লি, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ালো তৃণমূল কংগ্রেস। আজ দিল্লির নির্বাচন সদনে ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসে তৃণমূলের ১০ জন সাংসদের এক প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে রাজ্যে প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের রাজ্যসভা নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন।

'কমিশনের হাতে রক্ত লেগে আছে'

বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে ডেরেক ও'ব্রায়েন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানিয়েছি যে তাঁর এবং কমিশনের হাতে রক্ত লেগে আছে।" তৃণমূলের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে এবং অমানবিক পদ্ধতিতে এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ এই মৃত্যুমিছিল। দলটি মৃত ৪০ জনের একটি তালিকাও কমিশনে জমা দিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র জানান, এই প্রক্রিয়াটি বাঙালিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি চক্রান্ত হতে পারে। দলটি প্রশ্ন তুলেছে, যদি ২০২৪ সালের ভোটার তালিকা ত্রুটিপূর্ণই ছিল, তবে সেই তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচিত লোকসভা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে না কেন?

তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট করেছে যে তারা এসআইআর প্রক্রিয়ার ধারণার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু এর প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে তাদের شدید আপত্তি রয়েছে। দলের অভিযোগ, বিজেপি দ্বারা উত্থাপিত ভিত্তিহীন বিষয়গুলিতে কমিশন অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার কমিশনের

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশন সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে যে রাজনৈতিক নেতাদের বুথ লেভেল অফিসারদের প্রভাবিত করা বা হুমকি দেওয়া উচিত নয়। কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে যে ভোটার তালিকা সংশোধন একটি রুটিন প্রক্রিয়া এবং এটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্যই এই প্রক্রিয়া চালানো হয়। কমিশন ৯ই ডিসেম্বরের খসড়া তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছে এবং আশ্বস্ত করেছে যে কোনও অসঙ্গতি সংশোধনের জন্য যথেষ্ট সময় থাকবে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)


ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বেড়া: রাজ্যের ভূমিকায় হাইকোর্টের তীব্র অসন্তোষ

কলকাতা, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্যের গড়িমসিতে বিরক্তি প্রকাশ করে।

জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্ন

আদালতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান যে, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের টাকা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পরেই রাজ্যকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে না এবং বারবার সময় নিচ্ছে।

এই প্রেক্ষিতে ডিভিশন বেঞ্চ কড়া ভাষায় জানায়, "আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বিষয়টি দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজ্যকে বেশি সময় দেওয়া সম্ভব নয়।" আদালত রাজ্য সরকারকে এক সপ্তাহের মধ্যে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। হাইকোর্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের রিপোর্টে ইতিবাচক ইঙ্গিত না পাওয়া গেলে, মামলার টানা শুনানি করা হবে।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। হাইকোর্টে উপস্থিত বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এই বিলম্বের জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করেছেন। রাজ্যের বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, সদিচ্ছার অভাবেই সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে রয়েছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। রাজ্য সরকার অবশ্য এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। আদালতের এই কড়া মনোভাবের পর রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর থাকবে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)