পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি শুরু, আজ জেলা শাসকদের নিয়ে বৈঠকে বসছে কমিশন
কলকাতা, ২২ নভেম্বর, ২০২৫: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, আজ অর্থাৎ শনিবার রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসকদের (District Magistrates) সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছে কমিশনের আধিকারিকরা। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হল নির্বাচনী পরিকাঠামো এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM)-এর প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা। এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল রাতেই নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসে পৌঁছেছে। এই দলটি রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবে। আজ থেকে প্রথম পর্যায়ের ইভিএম পরীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। দূরবর্তী জেলার জেলা শাসকরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তুতি বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নির্বাচন কমিশন প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ চলার মধ্যেই এই প্রস্তুতি বৈঠক ভোটের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে যেমন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা করছে, তেমনই বিরোধী দল বিজেপি এবং সংযুক্ত মোর্চাও তাদের রণকৌশল তৈরি করতে ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন কমিশনের এই তৎপরতা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
টেট প্রশ্ন ভুল মামলা: বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা, নম্বর পাওয়ার আশায় পরীক্ষার্থীরা
কলকাতা, ২২ নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা (টেট)-এর প্রশ্ন ভুল মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে। ২০১৭ এবং ২০২২ সালের টেট পরীক্ষায় আসা কিছু প্রশ্ন ভুল ছিল বলে অভিযোগ তুলে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে জমা পড়েছে। রিপোর্ট জমা পড়ার পর বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর পর্যবেক্ষণ, যদি প্রশ্ন ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সমস্ত পরীক্ষার্থীকেই সেই প্রশ্নের জন্য পুরো নম্বর দিতে হবে।
আশার আলো দেখছেন চাকরিপ্রার্থীরা
হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের ফলে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ২০১৭ এবং ২০২২—এই দুই বছরের টেট পরীক্ষা মিলিয়ে প্রায় ৫০টি প্রশ্ন ভুল ছিল বলে মামলা করা হয়েছিল। আদালত নিযুক্ত যাদবপুর ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটি এই প্রশ্নগুলি খতিয়ে দেখে তাদের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে আদালতে জমা দিয়েছে।
আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে ওই দিনই জানাতে হবে যে তারা কীভাবে এই নম্বর বণ্টন করবে। পর্ষদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, যদি ভুল প্রশ্নের জন্য নম্বর পেয়ে কোনো পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন, তবে তাদের চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই সুযোগ দেওয়া হবে। এই রায়ের ফলে যারা সামান্য নম্বরের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তারা অনেকেই চাকরির দৌড়ে ফিরে আসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
রাজ্যপালের নতুন জনসংযোগ কর্মসূচি 'জলতরঙ্গ', গঙ্গার পাড়ের গ্রামে পৌঁছালেন সিভি আনন্দ বোস
কলকাতা, ২২ নভেম্বর, ২০২৫: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এক নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। 'জলতরঙ্গ' নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি গঙ্গা তীরবর্তী গ্রামগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছেন এবং সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছেন। রাজ্যপাল হিসেবে তার তৃতীয় বর্ষ পূর্তির দিনে, শুক্রবার, তিনি এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেন।
সাধারণ মানুষের মাঝে রাজ্যপাল
এদিন রাজ্যপাল বোস কলকাতা থেকে বোটে করে হাওড়ার নাজিরগঞ্জ, সাঁকরাইল এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের মতো বিভিন্ন এলাকায় যান। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। নাজিরগঞ্জে একটি স্থানীয় দোকানে ঢুকে তিনি ছোলা সেদ্ধ এবং চপ খান এবং তার প্রশংসাও করেন।
সংবাদমাধ্যমকে রাজ্যপাল জানান, "বাংলার আত্মাকে জানতে হলে গ্রামে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের অনুভূতি এবং তাদের সমস্যার কথা সরাসরি শোনার জন্যই এই উদ্যোগ।" তার এই জনসংযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজ্যপালের এই উদ্যোগ প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করবে এবং গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের বাস্তব চিত্র তুলে ধরবে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)