ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে সংঘাত তুঙ্গে, সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল ও কংগ্রেস

কলকাতা, ১০ই নভেম্বর, ২০২৫: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। আজ, সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে 'ভোটবন্দি' আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং অবিলম্বে এটি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে এক প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি অভিযোগ করেন যে, তাড়াহুড়ো করে এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং রাজ্যে এক 'সুপার এমার্জেন্সি' পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে Bharatiya Janata Party (BJP) রাজনৈতিক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, "নোটবন্দির মতো এসআইআর-ও গায়ের জোরে পার করবে ভাবছে। কিন্তু বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।" তাঁর আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু যোগ্য ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে।

এই বিতর্কের আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সাংসদ দোলা সেন ও মালা রায় আজ সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের আবেদনে বলা হয়েছে যে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন করা হলে তাতে অনেক ভুল থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেসও এসআইআর প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা এই প্রক্রিয়ায় একাধিক বদলের জন্য আবেদন করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি বাড়ি না গিয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ফর্ম বিলি করার অভিযোগে কয়েকজন বিএলও-কে শোকজ়ও করা হয়েছে। এই সমস্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি বর্তমানে উত্তাল।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)


দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক বৈঠকে দিলেন একগুচ্ছ বার্তা

শিলিগুড়ি, ১০ই নভেম্বর, ২০২৫: সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে এবং দুর্গত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে আজ সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে তিনি সরাসরি উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক সচিবালয় 'উত্তরকন্যা'-য় যান। সেখানে তিনি দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার—এই পাঁচ জেলার জেলাশাসক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেন।

বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্যা ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পুনর্গঠন এবং ত্রাণকার্যের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, রাজ্যজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ হাজারেরও বেশি পরিবারকে বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। তিনি জানান, দুর্যোগে মৃতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এবং হোমগার্ডের চাকরি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা ইতিমধ্যেই পালন করা হয়েছে।

এদিনের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। পাশাপাশি, তিনি কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগেও সরব হন। তিনি বলেন, "আমাদের টাকা ধ্বংস করবে, আবার আমাদেরই অপপ্রচার চালাবে। এটা টোটাল লুট, আর বলছে ঝুট।" মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি একদিকে যেমন দুর্গতদের প্রতি তাঁর সরকারের দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরছে, তেমনই অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)


কলকাতায় বসছে ডাকটিকিট প্রদর্শনীর আসর 'বঙ্গোপেক্স ২০২৫'

কলকাতা, ১০ই নভেম্বর, ২০২৫: ডাকটিকিট সংগ্রাহক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য সুখবর। ভারতীয় ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেল আগামী ১৪ থেকে ১৭ই নভেম্বর কলকাতায় দশম রাজ্যস্তরীয় ডাকটিকিট প্রদর্শনী 'বঙ্গোপেক্স ২০২৫'-এর আয়োজন করতে চলেছে। এই চার দিনব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র সায়েন্স সিটিতে।

আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল ডঃ সি. ভি. আনন্দ বোস। প্রদর্শনীতে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা হবে। প্রায় ৪০০টি ফ্রেমে বিভিন্ন ধরনের ডাকটিকিট এবং অন্যান্য ফিলাটেলিক সামগ্রী প্রদর্শিত হবে। এটি শুধুমাত্র সংগ্রাহকদের জন্যই নয়, ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ মানুষের কাছেও ডাকটিকিটের মাধ্যমে ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে জানার একটি অনন্য সুযোগ।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং কর্মশালারও আয়োজন করা হবে বলে ডাক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে ডাকটিকিট জমানোর শখকে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)