ত্রাণ বিলিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে উত্তপ্ত আলিপুরদুয়ার, বিডিওকে সরাসরি হুমকি বিজেপি সাংসদের
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ারে বন্যাত্রাণ বিলি নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে সরাসরি মাদারিহাটের বিডিও অমিত চৌরাসিয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির সাংসদ মনোজ টিগ্গার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মনোজ টিগ্গা বিডিওর অফিসে ঢুকে টেবিল চাপড়ে তাঁকে রীতিমতো শাসাচ্ছেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অভিযোগ, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মাদারিহাট ব্লকের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস ঘনিষ্ঠদেরই ত্রাণ দেওয়া হচ্ছিল। বিজেপি কর্মীদের এলাকা এবং আবেদন বারবার উপেক্ষা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে ক্ষোভ জানাতেই সাংসদ মনোজ টিগ্গা তাঁর অনুগামীদের নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর বিডিও অফিসে যান। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "বিডিওগিরি করতে হলে বিডিওগিরি করুন, তা না হলে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে ঘুরুন।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিডিও অফিসকে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রাপ্য ত্রাণ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাদারিহাটের বিডিও অমিত চৌরাসিয়া জানিয়েছেন যে সাংসদ কোনো পূর্ব सूचना ছাড়াই তাঁর অফিসে এসে গন্ডগোল শুরু করেন। তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সাংসদের বিরুদ্ধে 'গুন্ডামি'র অভিযোগ এনেছে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "এটাই বিজেপির সংস্কৃতি।" তবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংসদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ঘিরে উত্তপ্ত বাংলা: পথে নামছে তৃণমূল, পাল্টা জবাব বিজেপির
কলকাতা: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু genuine ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। এর প্রতিবাদে আগামী মঙ্গলবার পথে নামার ঘোষণা করেছে রাজ্যের শাসক দল। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা থেকে ভুয়ো এবং অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
শাসক ও বিরোধীদের অবস্থান
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে, এসআইআর (SIR)-এর আড়ালে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ গেলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের সামনে লক্ষাধিক মানুষ নিয়ে ধর্নায় বসবেন। আগামী মঙ্গলবার, ৪ঠা নভেম্বর, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে কলকাতায় একটি প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটবেন বলে জানা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে সহায়তা কেন্দ্র খোলারও পরিকল্পনা করেছে।
এর পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে তাঁরা এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, সীমান্ত জেলাগুলিতে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর নাম তৃণমূল ভোটার তালিকায় তুলেছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। বিজেপি কর্মীদের প্রতি তাঁদের বার্তা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে আসল ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সাহায্য করতে। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
কলকাতায় ফের বেআইনি কল সেন্টারের হদিশ, পুলিশের জালে ৩
কলকাতা: শহর কলকাতায় ফের একটি বেআইনি কল সেন্টারের পর্দাফাঁস করল কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার রাতে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানার গোয়েন্দারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশি অভিযান ও গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম জয় দাস (৩১), আমির খান (৩৫), এবং শেখ সাকিল আহমেদ (৩৬)। গোয়েন্দারা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এই অভিযান চালান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি মূলত বিদেশি নাগরিকদের ফোন করে প্রযুক্তিগত সহায়তার (Tech Support) নামে প্রতারণা করত। এছাড়াও বিভিন্ন নামীদামী সংস্থার গ্রাহক পরিষেবা দেওয়ার নামেও তারা টাকা হাতিয়ে নিত বলে অভিযোগ।
এই কল সেন্টারটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স ধৃতদের কাছে ছিল না। তাদের কাছ থেকে একাধিক কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন আপত্তিজনক নথি উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রতারণার জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশ শহরে গজিয়ে ওঠা এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)