বিষয়ের ভূমিকা

দ্বাদশ শ্রেণি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে স্নায়ুযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন নতুন শক্তির উত্থান ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান (ASEAN), চীন এবং ভারতের মতো নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শক্তি কীভাবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাদের প্রভাব বিস্তার করছে, তা এখানে আলোচিত হয়েছে।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একত্রিত হয়। ১৯৯২ সালের মাস্ত্রিখ চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়। এর নিজস্ব পতাকা, সংগীত এবং মুদ্রা (ইউরো) রয়েছে। এটি আজ বিশ্বের বৃহত্তম একক বাজার হিসেবে পরিচিত।

২. দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিগোষ্ঠী (ASEAN)

১৯৬৭ সালে পাঁচটি দেশ—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ড—'ব্যাংকক ঘোষণা'-র মাধ্যমে আসিয়ান প্রতিষ্ঠা করে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

৩. চীনের উত্থান

চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি। ১৯৭৮ সালে ডেন সিয়াও পিংয়ের সংস্কার কর্মসূচি চীনকে বিশ্ব অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসে। চীন এখন কেবল পণ্য উৎপাদনকারী দেশ নয়, বরং প্রযুক্তিতেও বিশ্বের অন্যতম নেতা।

৪. বিকল্প শক্তির কেন্দ্র হিসেবে ভারত

ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভারতের প্রভাব সারা বিশ্বে স্বীকৃত। জাতিসংঘে স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার জন্য ভারতের দাবি বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন: অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়।
  • আসিয়ান: আঞ্চলিক সহযোগিতার রোল মডেল।
  • চীন: বিশ্ব অর্থনীতির নতুন কেন্দ্র।
  • ভারত: ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত শক্তি।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: আসিয়ান (ASEAN) গঠনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তর: আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক প্রগতি এবং সাংস্কৃতিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা।

প্রশ্ন ২: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের নাম লেখো।
উত্তর: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব মুদ্রা 'ইউরো' এবং এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অবাধ বাণিজ্য ও চলাচলের সুবিধা রয়েছে।

প্রশ্ন ৩: বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের বাইরে যেসব আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক সংস্থা বা রাষ্ট্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম, তাদের বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র বলা হয়।

সারসংক্ষেপ

  • বিশ্ব এখন আর একক মেরুতে সীমাবদ্ধ নেই।
  • ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আসিয়ান আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
  • চীন এবং ভারতের উত্থান এশীয় শতাব্দী গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
  • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এখন বহুমুখী সহযোগিতার প্রয়োজন অপরিসীম।