ঘূর্ণিঝড় ‘মনথা’-র অবশিষ্টাংশ: সপ্তাহান্তে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির ভ্রুকুটি, উত্তরবঙ্গে ভূমিধসের আশঙ্কা
কলকাতা, ১ নভেম্বর, ২০২৫: ঘূর্ণিঝড় ‘মনথা’ শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হলেও তার প্রভাব থেকে এখনই মুক্তি পাচ্ছে না পশ্চিমবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপের অবশিষ্টাংশের জেরে আজ, শনিবার এবং আগামীকাল, রবিবার পর্যন্ত রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যার ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পং-এর পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আজ শনিবার উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির বেশ কিছু অংশেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এই একটানা বর্ষণের ফলে পার্বত্য এলাকার নদীগুলির জলস্তর বাড়তে পারে এবং ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আজ শনিবার দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং নদিয়া জেলার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে ধীরে ধীরে আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বৃষ্টিপাত কমবে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
আজ থেকে কার্যকর একগুচ্ছ নতুন নিয়ম: আধার আপডেট থেকে ব্যাঙ্কিং, জানুন বিস্তারিত
নয়াদিল্লি, ১ নভেম্বর, ২০২৫: আজ, ১ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে বেশ কিছু আর্থিক এবং প্রশাসনিক নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ব্যাঙ্কিং, আধার কার্ড আপডেট, এবং পেনশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং ও পেনশন সংক্রান্ত পরিবর্তন
আজ থেকে ব্যাঙ্কিং আইনের নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট হোল্ডাররা এখন থেকে একটি অ্যাকাউন্টের জন্য একসঙ্গে চারজন নমিনি মনোনীত করতে পারবেন। কোন নমিনি কত শতাংশ অর্থ পাবেন, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া যাবে। এর পাশাপাশি, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) তাদের কিছু কার্ডের পরিষেবা চার্জেও পরিবর্তন এনেছে। পেনশনভোগীদের জন্য নভেম্বর মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এই মাসের মধ্যেই তাদের ‘লাইফ সার্টিফিকেট’ জমা দিতে হবে, অন্যথায় পেনশন পেতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও, যে সমস্ত সরকারি কর্মচারী নতুন পেনশন সিস্টেম (NPS) থেকে ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমে (UPS) যেতে চান, তাদের জন্যেও এই মাসটি চূড়ান্ত সময়সীমা।
আধার কার্ড আপডেটের নতুন নিয়ম
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই) শিশুদের বায়োমেট্রিক আপডেটের জন্য যে ফি ধার্য ছিল, তা তুলে নিয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আধার কার্ডে নাম, জন্মতারিখ বা মোবাইল নম্বরের মতো তথ্য আপডেট করার জন্য ৭৫ টাকা এবং বায়োমেট্রিক তথ্য (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ স্ক্যান) পরিবর্তনের জন্য ১২৫ টাকা লাগবে। এই নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আগামী দিনে কোনওরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
রাজ্যে শুরু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), চলবে ডিসেম্বর পর্যন্ত
কলকাতা, ১ নভেম্বর, ২০২৫: ভারতের নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, આજ থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া শুরু হল। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকাকে নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করে তোলা।
কীভাবে চলবে এই প্রক্রিয়া?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ বা ‘এনুমারেশন ফর্ম’ প্রক্রিয়া চালানো হবে। এর ভিত্তিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই খসড়া তালিকার উপর ভিত্তি করে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে এবং তার শুনানি হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে, আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় পুরনো ভোটারদের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান তথ্য যাচাই করে দেখা হবে, যাতে কোনও ভুয়ো বা স্থানান্তরিত ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে।
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। শাসক এবং বিরোধী উভয় পক্ষই এই প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখছে। বিরোধী দলগুলির আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারার কারণে অনেক যোগ্য নাগরিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে, যাতে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ না যায় এবং কোনও বেআইনি নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)