বিষয়ের ভূমিকা
ভারতীয় ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাঁরা শুধুমাত্র ইতিহাস রচনা করেননি, বরং целая একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যাঁকে আমরা মহাত্মা গান্ধী নামে চিনি, তিনি হলেন সেইরকমই একজন যুগপুরুষ। দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি আমাদের সেই সময়পর্বে নিয়ে যায় যখন গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক নতুন মাত্রা পেয়েছিল। ১৯১৫ সালে তাঁর ভারতে প্রত্যাবর্তন থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালে দেশের স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত সময়কালটি ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সবচেয়ে ঘটনাবহুল পর্যায়।
এই অধ্যায়টি শুধুমাত্র কয়েকটি আন্দোলন বা ঘটনার বিবরণ নয়, এটি হলো একজন নেতার আদর্শ, তাঁর কর্মপন্থা এবং তাঁর সঙ্গে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের আত্মিক সংযোগের কাহিনী। কীভাবে একজন আইনজীবী থেকে তিনি 'মহাত্মা' হয়ে উঠলেন? কীভাবে তাঁর 'সত্যাগ্রহ' এবং 'অহিংসা'র দর্শন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মতো বিশাল শক্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল? অসহযোগ, আইন অমান্য এবং ভারত ছাড়ো - এই তিনটি বড় আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি কীভাবে ভারতের আপামর জনসাধারণকে স্বাধীনতার স্বপ্নে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আমরা এই অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। এই আলোচনা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে যে ভারতের স্বাধীনতা কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল এক সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আত্মিক জাগরণ, যার কেন্দ্রে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী।
মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
গান্ধীর ভারতে আগমন ও প্রাথমিক আন্দোলন
১৯১৫ সালের জানুয়ারি মাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় দুই দশক কাটানোর পর ভারতে ফিরে আসেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন তিনি ভারতীয়দের অধিকার রক্ষার জন্য বর্ণবৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সেখানেই তিনি তাঁর অনন্য রাজনৈতিক পদ্ধতি 'সত্যাগ্রহ' (সত্যের প্রতি आग्रह) এবং অহিংস প্রতিরোধের কৌশলকে সফলভাবে প্রয়োগ করেন।
ভারতে ফিরে আসার পর তাঁর রাজনৈতিক গুরু গোপাল কৃষ্ণ গোখলের পরামর্শে তিনি এক বছর ধরে সারা ভারত ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল দেশের প্রকৃত অবস্থা, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং সমস্যাগুলি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এই এক বছরে তিনি ভারতের মাটির সঙ্গে, এখানকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশার সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীকালে তাঁর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আন্দোলনের রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাঁর প্রাথমিক আন্দোলনগুলি ছিল আঞ্চলিক স্তরে, কিন্তু সেগুলির সাফল্য তাঁকে জাতীয় স্তরের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
- চম্পারণ সত্যাগ্রহ (১৯১৭): বিহারের চম্পারণে নীল চাষিদের ওপর ব্রিটিশ বাগান মালিকদের অত্যাচার ছিল চরমে। চাষিদের 'তিনকাঠিয়া' প্রথার অধীনে নিজেদের জমির একটি নির্দিষ্ট অংশে নীল চাষ করতে বাধ্য করা হতো এবং তা নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হতো। রাজকুমার শুক্লার আমন্ত্রণে গান্ধীজি সেখানে যান এবং চাষিদের সংগঠিত করে অহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁর চাপের মুখে সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনকাঠিয়া প্রথা বাতিল হয়। এটিই ছিল ভারতে গান্ধীজির প্রথম সফল সত্যাগ্রহ।
- আহমেদাবাদ মিল ধর্মঘট (১৯১৮): আহমেদাবাদের কাপড়ের কলের মালিক এবং শ্রমিকদের মধ্যে প্লেগ বোনাস নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। শ্রমিকরা ৫০% বেতন বৃদ্ধির দাবি জানায়, কিন্তু মালিকরা ২০% এর বেশি দিতে রাজি ছিল না। গান্ধীজি শ্রমিকদের পক্ষে দাঁড়ান এবং তাঁদের অহিংস ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। শ্রমিকদের মনোবল ধরে রাখার জন্য তিনি নিজে অনশন শুরু করেন। তাঁর অনশনের ফলে মালিকরা আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় এবং অবশেষে ৩৫% বেতন বৃদ্ধিতে রাজি হয়।
- খেড়া সত্যাগ্রহ (১৯১৮): গুজরাটের খেড়া জেলায় ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে কৃষকরা চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, ফসল উৎপাদন স্বাভাবিকের এক-চতুর্থাংশের কম হলে ভূমি রাজস্ব মকুব করার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার রাজস্ব মকুব করতে রাজি ছিল না। গান্ধীজি কৃষকদের রাজস্ব না দেওয়ার জন্য অহিংস আন্দোলন শুরু করতে বলেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই আন্দোলনে গান্ধীজির অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন। অবশেষে, সরকার শুধুমাত্র সেইসব কৃষকদের থেকে রাজস্ব নিতে রাজি হয় যাদের দেওয়ার ক্ষমতা আছে।
এই তিনটি আঞ্চলিক আন্দোলনের সাফল্য গান্ধীজিকে ভারতের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে এক অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তিনি প্রমাণ করেন যে অহিংসা এবং সত্যাগ্রহের মাধ্যমেও বড় বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
রাওলাট আইন ও অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ভারতীয়রা ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল এই আশায় যে যুদ্ধের পর তাদের স্বায়ত্তশাসনের দাবি মানা হবে। কিন্তু যুদ্ধের শেষে ব্রিটিশ সরকার দমনমূলক নীতি গ্রহণ করে। ১৯১৯ সালে বিচারপতি সিডনি রাওলাটের নেতৃত্বে একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে 'রাওলাট আইন' পাস করা হয়। এই আইন অনুসারে, সরকার যেকোনো ভারতীয়কে বিনা বিচারে গ্রেপ্তার করতে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারতো। এই আইন ছিল ভারতীয়দের মৌলিক অধিকারের ওপর এক চরম আঘাত।
গান্ধীজি এই 'কালা কানুন'-এর বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সত্যাগ্রহের ডাক দেন। ১৯১৯ সালের ৬ই এপ্রিল হরতালের ডাক দেওয়া হয়। এই সময় পাঞ্জাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অমৃতসরে, ১৩ই এপ্রিল, বৈশাখী উৎসবের দিন, জালিয়ানওয়ালাবাগে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরস্ত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে গান্ধীজি একটি বৃহত্তর আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এই সময়েই তুরস্কের সুলতান, যিনি বিশ্বের মুসলিমদের খলিফা হিসেবে গণ্য হতেন, তাঁর ক্ষমতা ব্রিটিশদের দ্বারা খর্ব হওয়ায় ভারতের মুসলিমরা 'খিলাফত আন্দোলন' শুরু করে। গান্ধীজি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের এক দারুণ সুযোগ দেখতে পান এবং খিলাফত আন্দোলনকে সমর্থন জানান।
১৯২০ সালের সেপ্টেম্বরে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গান্ধীজি 'অসহযোগ আন্দোলন'-এর প্রস্তাব পেশ করেন, যা ডিসেম্বরে নাগপুর অধিবেশনে গৃহীত হয়। এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল 'স্বরাজ' অর্জন। এর কর্মসূচী ছিল দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
- বয়কট (Negative aspects):
- সরকারি স্কুল, কলেজ, আদালত এবং আইনসভা বর্জন করা।
- বিদেশি পণ্য, বিশেষ করে ম্যানচেস্টারের কাপড় বর্জন করা।
- সরকারি চাকরি এবং খেতাব ত্যাগ করা।
- স্বদেশী (Positive aspects):
- জাতীয় বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় স্থাপন করা।
- গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থা চালানো।
- চরকায় সুতো কেটে খাদি বস্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করা।
- হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বজায় রাখা এবং অস্পৃশ্যতা দূর করা।
অসহযোগ আন্দোলন अभূতপূর্ব সাড়া ফেলে। ছাত্ররা স্কুল-কলেজ ছেড়ে দেয়, আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন এবং সাধারণ মানুষ বিপুল উৎসাহে আন্দোলনে যোগ দেয়। বিদেশি কাপড়ের দোকানে পিকেটিং এবং বিদেশি বস্ত্রের হোলি জ্বালানো একটি সাধারণ দৃশ্য হয়ে ওঠে।
কিন্তু, ১৯২২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি, উত্তরপ্রদেশের চৌরি চৌরা নামক স্থানে একটি উত্তেজিত জনতা থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে ২২ জন পুলিশ কর্মচারী নিহত হন। এই হিংসাত্মক ঘটনায় গান্ধীজি অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তিনি বুঝতে পারেন যে দেশবাসী এখনও অহিংসার আদর্শ পুরোপুরি গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। তাই, আন্দোলনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সত্ত্বেও, তিনি ১২ই ফেব্রুয়ারি, ১৯২২-এ অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে অনেক জাতীয়তাবাদী নেতা হতাশ হলেও গান্ধীজি তাঁর অহিংসার নীতিতে অটল ছিলেন।
জননেতা হিসেবে গান্ধী
অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে গান্ধীজি ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেন। তাঁর আগে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন মূলত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু গান্ধীজি এই আন্দোলনকে শহরের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, নারী এবং ছাত্রদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। তিনি হয়ে ওঠেন এক সত্যিকারের 'জননেতা'। এর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল:
- সাধারণ জীবনযাপন: তিনি সাধারণ ভারতীয়দের মতো পোশাক পরতেন (ধুতি), সাধারণ খাবার খেতেন এবং তৃতীয় শ্রেণীর রেল কামরায় ভ্রমণ করতেন। তাঁর এই সরল জীবনযাপন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর একাত্মতা তৈরি করে।
- মাতৃভাষার ব্যবহার: তিনি ইংরেজি ছেড়ে সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলতেন, যা তাঁর বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিত।
- চরকা ও খাদির প্রতীক: গান্ধীজি চরকাকে আত্মনির্ভরতা এবং ব্রিটিশ অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, চরকার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। খাদি পরা হয়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদের প্রতীক।
- গঠনমূলক কর্মসূচী: আন্দোলনের পাশাপাশি গান্ধীজি অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি স্থাপন, এবং গ্রামীণ স্বনির্ভরতার মতো গঠনমূলক কাজে জোর দেন। এই কাজগুলো সমাজের গভীরে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিল।
- 'মহাত্মা' পরিচিতি: সাধারণ মানুষ তাঁকে একজন সাধু বা 'মহাত্মা' হিসেবে দেখত। তাঁর আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তি এবং অলৌকিক ক্ষমতার গুজব (যেমন, তাঁকে কেউ আঘাত করতে পারে না) তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে দেবতুল্য করে তুলেছিল। তারা বিশ্বাস করত যে গান্ধীজিই তাদের সমস্ত দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি দেবেন।
এভাবেই গান্ধীজি কংগ্রেসকে একটি অভিজাত সংগঠন থেকে একটি গণসংগঠনে রূপান্তরিত করেন এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে এক গণআন্দোলনের রূপ দেন।
লবণ সত্যাগ্রহ ও আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪)
অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের পর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে কিছুটা স্থবিরতা আসে। কিন্তু ১৯২৭ সালে সাইমন কমিশন গঠন এবং ১৯২৯ সালে কংগ্রেসের লাহোর অধিবেশনে 'পূর্ণ স্বরাজ'-এর দাবি গৃহীত হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
গান্ধীজি একটি নতুন গণআন্দোলনের পরিকল্পনা করছিলেন এবং এর জন্য একটি উপযুক্ত প্রতীক খুঁজছিলেন। তিনি 'লবণ'-কে বেছে নেন। লবণ ছিল গরিব-ধনী নির্বিশেষে সকলের নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি জিনিস। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার লবণের ওপর একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করে এবং এর ওপর কর বসায়। এটি ছিল ব্রিটিশ শোষণের এক নগ্ন প্রতীক।
গান্ধীজি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে একটি চরমপত্র দেন, যেখানে ১১-দফা দাবি পেশ করা হয়, যার মধ্যে লবণ কর বাতিল করার দাবিও ছিল। আরউইন এই দাবি অগ্রাহ্য করলে গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
ডান্ডি মার্চ: ১৯৩০ সালের ১২ই মার্চ, গান্ধীজি তাঁর ৭৮ জন অনুগামীকে নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডির সমুদ্রতটের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। এই যাত্রা ছিল ২৪ দিনে প্রায় ২৪০ মাইল দীর্ঘ। যাত্রাপথে হাজার হাজার মানুষ তাঁকে দেখতে এবং তাঁর ভাষণ শুনতে ভিড় জমায়। তিনি গ্রামের মানুষদের চরকায় সুতো কাটতে, অস্পৃশ্যতা ত্যাগ করতে এবং অহিংসার পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন। এই পদযাত্রাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
৬ই এপ্রিল, ১৯৩০-এ তিনি ডান্ডিতে পৌঁছান এবং সমুদ্রের জল থেকে এক মুঠো লবণ তৈরি করে প্রতীকীভাবে ব্রিটিশ আইন ভঙ্গ করেন। এই ঘটনাটি ছিল সারা দেশে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার সংকেত।
আন্দোলনের প্রসার: ডান্ডি মার্চের পর সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ বিভিন্ন জায়গায় লবণ আইন ভঙ্গ করে, বিদেশি পণ্য বর্জন করে, সরকারি কর দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং বন আইন অমান্য করে। নারীরা বিপুল সংখ্যায় এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে, যা ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে খান আবদুল গফফর খান (সীমান্ত গান্ধী) এবং তাঁর 'খুদাই খিদমতগার' বাহিনী অহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
ব্রিটিশ সরকার কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করে এবং গান্ধীজি সহ প্রায় ৬০,০০০ सत्याग्रहीকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গান্ধী-আরউইন চুক্তি ও গোলটেবিল বৈঠক: আন্দোলনের তীব্রতা দেখে ব্রিটিশ সরকার আলোচনার পথ বেছে নেয়। ১৯৩১ সালের মার্চ মাসে গান্ধী-আরউইন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী, সরকার সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে এবং ভারতীয়দের লবণ তৈরির অধিকার দিতে সম্মত হয়। বিনিময়ে, গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলন স্থগিত রাখতে এবং লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে রাজি হন।
লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠক ব্যর্থ হয়, কারণ ব্রিটিশরা ভারতের স্বাধীনতার বিষয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি ছিল না। গান্ধীজি হতাশ হয়ে দেশে ফিরে এসে পুনরায় আন্দোলন শুরু করেন, কিন্তু ততদিনে ব্রিটিশরা প্রস্তুত ছিল এবং আন্দোলনকে কঠোরভাবে দমন করা হয়। ১৯৩৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২)
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। কংগ্রেস যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্রিটিশদের সাহায্য করতে রাজি ছিল, কিন্তু শর্ত ছিল যে যুদ্ধের পর ভারতকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। ব্রিটিশ সরকার এই দাবি মানতে রাজি ছিল না। ১৯৪২ সালে স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে 'ক্রিপস মিশন' ভারতে আসে, কিন্তু তার প্রস্তাবগুলিও ভারতীয়দের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। গান্ধীজি এই প্রস্তাবকে 'a post-dated cheque on a failing bank' (একটি ফেল করা ব্যাঙ্কের ওপর তারিখ পেরিয়ে যাওয়া চেক) বলে অভিহিত করেন।
ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতা এবং জাপানি আক্রমণের আশঙ্কার মধ্যে গান্ধীজি অনুভব করেন যে ভারতে ব্রিটিশদের উপস্থিতিই জাপানিদের আক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই তিনি ব্রিটিশদের ভারত ছেড়ে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দেন।
১৯৪২ সালের ৮ই আগস্ট, বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে 'ভারত ছাড়ো' প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সভাতেই গান্ধীজি তাঁর বিখ্যাত ভাষণ দেন এবং দেশবাসীকে 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' (Do or Die) মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেন। এর অর্থ ছিল, হয় আমরা ভারতকে স্বাধীন করব অথবা সেই চেষ্টায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করব, কিন্তু পরাধীনতা মেনে নেব না।
পরদিন সকালেই, ৯ই আগস্ট, ব্রিটিশ সরকার গান্ধীজি, নেহরু, প্যাটেল সহ সমস্ত প্রথম সারির কংগ্রেস নেতাকে গ্রেপ্তার করে। নেতাদের গ্রেপ্তারের ফলে আন্দোলন নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে, কিন্তু জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহ শুরু করে। সারা দেশে হরতাল, বিক্ষোভ এবং মিছিল সংগঠিত হয়। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকরা এই আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় রেললাইন তুলে ফেলা হয়, টেলিগ্রাফের তার কেটে দেওয়া হয় এবং সরকারি সম্পত্তি আক্রমণ করা হয়। বাংলা, বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে সমান্তরাল 'জাতীয় সরকার' প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমন মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার।
ব্রিটিশ সরকার অত্যন্ত নির্মমভাবে এই আন্দোলন দমন করে। গুলি চালানো, লাঠিচার্জ এবং গণগ্রেপ্তার ছিল সাধারণ ঘটনা। প্রায় এক লক্ষ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়। ১৯৪৪ সালের মধ্যে আন্দোলন প্রায় স্তিমিত হয়ে আসে।
ব্যর্থ হলেও, ভারত ছাড়ো আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ভারতে তাদের শাসন আর দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এই আন্দোলন স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।
শেষ পর্ব: স্বাধীনতা ও দেশভাগ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বদলে যায়। তারা বুঝতে পারে যে ভারতকে আর উপনিবেশ হিসেবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৪৫ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের স্বাধীনতা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
কিন্তু এই সময়েই মুসলিম লিগের পৃথক পাকিস্তানের দাবি তীব্র হয়ে ওঠে। মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর নেতৃত্বে লিগ দ্বি-জাতি তত্ত্বের (হিন্দু ও মুসলিম দুটি পৃথক জাতি) ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করে। কংগ্রেস অখণ্ড ভারতের পক্ষে থাকলেও, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।
১৯৪৬ সালে 'ক্যাবিনেট মিশন' ভারতে আসে একটি সমাধান সূত্র বের করার জন্য, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। জিন্নাহ 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম'-এর ডাক দিলে কলকাতা সহ সারা দেশে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এই হিংসার সময়ে গান্ধীজি দাঙ্গাবিধ্বস্ত এলাকা, যেমন বাংলার নোয়াখালী এবং বিহারে, পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেন এবং শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তাঁর উপস্থিতি অনেক জায়গায় শান্তিস্থাপনে সহায়ক হয়েছিল।
অবশেষে, লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের শেষ ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ভারত ভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু তা দেশভাগের মর্মান্তিক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে। গান্ধীজি দেশভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং স্বাধীনতার উৎসবে তিনি দিল্লিতে যোগ না দিয়ে কলকাতায় দাঙ্গা থামানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর কাছে এটি ছিল এক শূন্য বিজয়। তিনি বলেছিলেন, যে স্বাধীনতা তিনি চেয়েছিলেন, এ সেই স্বাধীনতা নয়।
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
প্রশ্ন ১: সত্যাগ্রহ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: সত্যাগ্রহ গান্ধীজির দ্বারা প্রবর্তিত এক বিশেষ ধরনের অহিংস প্রতিরোধের দর্শন। 'সত্যাগ্রহ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'সত্যের প্রতি आग्रह' বা 'সত্যের শক্তি'। এটি কেবল নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নয়, বরং এটি একটি সক্রিয় এবং নৈতিক সংগ্রাম। এর মূল ভিত্তি হলো - যদি আপনার উদ্দেশ্য সৎ এবং ন্যায়সঙ্গত হয় এবং আপনার সংগ্রাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয়, তবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শারীরিক বল প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই। অহিংসা, আত্মপীড়ন এবং প্রতিপক্ষের হৃদয় পরিবর্তনের চেষ্টার মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করাই হলো সত্যাগ্রহ।
প্রশ্ন ২: গান্ধীজি কেন অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন?
উত্তর: গান্ধীজি ছিলেন অহিংসার একনিষ্ঠ পূজারী। তাঁর কাছে লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে পথের শুদ্ধতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অসহযোগ আন্দোলন যখন সাফল্যের শিখরে, তখন ১৯২২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের চৌরি চৌরা গ্রামে উত্তেজিত জনতা একটি থানায় আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে ২২ জন পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়। এই হিংসাত্মক ঘটনায় গান্ধীজি গভীরভাবে মর্মাহত হন। তিনি মনে করেন যে দেশবাসী এখনও অহিংসার প্রকৃত অর্থ বোঝেনি এবং একটি হিংসাত্মক আন্দোলন তাঁর আদর্শের পরিপন্থী। তাই, আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি হিংসার দিকে মোড় নেওয়ায় তিনি ১৯২২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি একতরফাভাবে আন্দোলনটি প্রত্যাহার করে নেন।
প্রশ্ন ৩: ডান্ডি মার্চের তাৎপর্য কী ছিল?
উত্তর: ডান্ডি মার্চের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী:
- প্রতীকী গুরুত্ব: লবণ করের মতো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে গান্ধীজি ব্রিটিশ শাসনের অন্যায় এবং শোষণের দিকটি সফলভাবে তুলে ধরেন।
- গণ অংশগ্রহণ: এই পদযাত্রা সারা দেশে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে এবং আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা করে, যাতে নারীরা সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
- আন্তর্জাতিক প্রচার: ইউরোপীয় এবং আমেরিকান সংবাদমাধ্যম এই পদযাত্রার ব্যাপক প্রচার করে, যা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতি তৈরি করে।
- ব্রিটিশ সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ: এই অহিংস প্রতিরোধ ব্রিটিশ সরকারকে বিশ্বের চোখে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং তাদের नैतिक কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দেয়।
প্রশ্ন ৪: 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনকে কেন একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব বলা হয়?
উত্তর: 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনকে একটি স্বতঃস্ফূর্ত বিপ্লব বলা হয় কারণ আন্দোলন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গান্ধীজি সহ কংগ্রেসের সমস্ত শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে, আন্দোলনটি কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু নেতারা না থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ মানুষ নিজেরাই আন্দোলনের দায়িত্ব তুলে নেয়। দেশজুড়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। স্থানীয় নেতারা নিজেদের মতো করে আন্দোলন পরিচালনা করেন এবং অনেক জায়গায় সমান্তরাল সরকারও গঠিত হয়। এই গণবিস্ফোরণ দেখিয়ে দেয় যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কতটা তীব্র ছিল এবং মানুষ আর ব্রিটিশ শাসন সহ্য করতে প্রস্তুত ছিল না।
সারসংক্ষেপ
মহাত্মা গান্ধী ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন অধ্যায়টি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে তুলে ধরে। এর মূল বিষয়গুলি সংক্ষেপে মনে রাখার জন্য নিচে দেওয়া হলো:
- গান্ধীজির আগমন (১৯১৫): দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসে তিনি ভারতের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং চম্পারণ, আহমেদাবাদ ও খেড়ার মতো আঞ্চলিক সত্যাগ্রহের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২): রাওলাট আইন এবং জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গান্ধীজির নেতৃত্বে এটি ছিল প্রথম দেশব্যাপী গণআন্দোলন। এর লক্ষ্য ছিল স্বরাজ অর্জন, কিন্তু চৌরি চौरার হিংসাত্মক ঘটনার কারণে এটি প্রত্যাহার করা হয়।
- আইন অমান্য আন্দোলন (১৯৩০-৩৪): বিখ্যাত ডান্ডি মার্চের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। লবণ আইন ভঙ্গ করে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এটি ছিল এক ব্যাপক প্রতিরোধ।
- ভারত ছাড়ো আন্দোলন (১৯৪২): 'করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে' মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত। এই আন্দোলন ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিমূলকে নাড়িয়ে দেয়।
- গান্ধীজির দর্শন: তাঁর সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি ছিল 'সত্যাগ্রহ' (সত্যের শক্তি) এবং 'অহিংসা' (অহিংসা)।
- গণআন্দোলনের রূপকার: গান্ধীজিই প্রথম নেতা যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে মুষ্টিমেয় শিক্ষিত মানুষের গণ্ডি থেকে বের করে এনে কৃষক, শ্রমিক, নারী সহ আপামর জনসাধারণের আন্দোলনে পরিণত করেন।
- স্বাধীনতা ও দেশভাগ (১৯৪৭): বহু সংগ্রামের পর ভারত স্বাধীনতা লাভ করে, কিন্তু দেশভাগের যন্ত্রণা গান্ধীজিকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য কাজ করে গেছেন।