আজকের শিরোনাম: প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
কলকাতা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫: মঙ্গলবার, ২৮শে অক্টোবর, পশ্চিমবঙ্গ একটি দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা' উপকূলের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এক নজিরবিহীন রদবদল ঘটেছে। সব মিলিয়ে আজকের দিনটি পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘটনাবহুল হতে চলেছে।
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা', উপকূলে চূড়ান্ত সতর্কতা
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড় 'মন্থা'-তে পরিণত হয়েছে এবং আজ সন্ধ্যায় এটি স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের সময় এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে, বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং ঝাড়গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সতর্কতা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের ২৭ অক্টোবরের মধ্যে সমুদ্রে থেকে ফিরে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (NDRF) একাধিক দল রাজ্যের বিভিন্ন संवेदनशील এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি সহ বিভিন্ন জেলাতেও ৩০ এবং ৩১ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নবান্ন থেকে পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং জেলা প্রশাসনগুলিকে সমস্ত রকম আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
এসআইআর ঘিরে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি ও নজিরবিহীন আমলা রদবদল
প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কার মধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়াও অত্যন্ত উত্তপ্ত। নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক তরজা
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। দলের মুখপাত্রদের মতে, বিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস ভয় পাচ্ছে কারণ এই প্রক্রিয়ার ফলে তাদের 'অবৈধ বাংলাদেশি ভোটব্যাঙ্ক' ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সময়মতো ভোটার তালিকা প্রস্তুত না হলে এবং নির্বাচন না হলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে।
রেকর্ড সংখ্যক আমলা বদলি
এই রাজনৈতিক বিতর্কের আবহের মধ্যেই, এসআইআর ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্য সরকার এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল করেছে। সোমবার এক ধাক্কায় ১৪ জন জেলাশাসক সহ ৬৪ জন আইএএস এবং ৪৫৭ জন ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার জেলাশাসকদের বদলি করা হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার এটিকে 'রুটিন' বদলি বলে অভিহিত করেছে, তবে এসআইআর প্রক্রিয়ার ঠিক আগে এত বড় মাপের রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য পদক্ষেপের আগেই রাজ্য প্রশাসন নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
নয়া রেকর্ড: মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদে বিধান রায়কে ছাপিয়ে গেলেন মমতা
রাজ্যের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই একটি নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকার রেকর্ড গড়লেন। এর আগে এই রেকর্ড ছিল পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হিসেবে পরিচিত কিংবদন্তী চিকিৎসক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধানচন্দ্র রায়ের দখলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সাল থেকে টানা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং তার মেয়াদকাল এবার বিধানচন্দ্র রায়ের মোট কার্যকালের সময়কে অতিক্রম করল। এই ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)