আচ্ছা, বলুন তো, কার না মন ভালোবাসার গল্প শুনতে ভালো লাগে? কেউ হয়তো রোমিও-জুলিয়েটের অমর প্রেম কাহিনী মনে করেন, কেউবা হয়তো তাজমহলের প্রেমে গড়া ইতিহাস। কিন্তু এই দুনিয়ায় এমনও কিছু মন ভালো করা, আবার খানিকটা অবাক করা ভালোবাসার গল্প আছে, যা হয়তো আমরা সচরাচর শুনি না। আজ তেমনই এক অসামান্য, আর ভীষণই (!) আনকমন প্রেমের গল্পের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো, যেখানে তিন-তিনটি হৃদয় জড়িয়ে আছে!
তিন হৃদয়ের মায়া
হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! আমরা যেখানে একটি হার্ট নিয়ে জীবন কাটাই, সেখানে এমন এক প্রাণী আছে, যার রয়েছে মোট তিনটি হার্ট! আর এই তিনটি হার্টই তার ভালোবাসার, তার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বলছি সেই আট-পেয়ে, আঠালো, কিন্তু অসম্ভব বুদ্ধিমান প্রাণীটির কথা – অক্টোপাস।
অক্টোপাসের শরীরে রয়েছে তিনটি হৃদয়! দুটি হৃদয় তাদের ফুলকার মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে, আর তৃতীয়টি সেই রক্ত সারা শরীরে পৌঁছে দেয়।
ভাবছেন, হঠাৎ তিন হৃদয়ের কথা কেন? আসলে, এই তিন হৃদয়ের রহস্যের সাথে জড়িয়ে আছে অক্টোপাসের টিকে থাকার লড়াই, তার জীবনের ছন্দ, আর হ্যাঁ, ভালোবাসারও একটা বিশেষ যোগসূত্র আছে!
বিজ্ঞানীরা বলেন, অক্টোপাসের রক্তে হিমোসায়ানিন (hemocyanin) নামক এক প্রোটিন থাকে, যা তাদের রক্তকে নীল রঙ দেয়। এই হিমোসায়ানিন অক্সিজেন পরিবহনে আমাদের রক্তের হিমোগ্লোবিনের (hemoglobin) চেয়ে কম কার্যকর। তাই, এই ঘাটতি পূরণ করতে এবং নিজেদের শিকারী জীবনে সক্রিয় থাকতে, অক্টোপাসের প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত হৃদপিণ্ডের। দুটি হার্ট ফুলকাকে সচল রাখে, যেখানে রক্তে অক্সিজেন মেশে, আর তৃতীয় হার্ট সেই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়, যা তাদের আটটি বাহুকে কার্যক্ষম করে তোলে।
তবে মজার বিষয় কী জানেন? যখন অক্টোপাস সাঁতার কাটে, তখন তার শরীরের প্রধান হার্টটি ধীর হয়ে যায় বা প্রায় বন্ধই হয়ে যায়! এই কারণেই তারা সাঁতারের চেয়ে হেঁটে বা হামাগুড়ি দিয়ে চলাফেরা করতেই বেশি ভালোবাসে।
এই তিনটি হৃদয় শুধু তাদের শারীরিক কার্যাবলীই নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং তাদের জীবনচক্রের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, অর্থাৎ প্রজননের সময়েও এদের ভূমিকা অপরিসীম। যদিও অক্টোপাসের জীবনকাল খুব দীর্ঘ নয়, মাত্র এক থেকে দুই বছর, তবুও এই অল্প সময়ে তাদের ভালোবাসার প্রকাশ, সঙ্গী খুঁজে নেওয়া এবং বংশবৃদ্ধি – এই সবকিছুতেই এই বিশেষ হার্টগুলোর অবদান রয়েছে।
পরিশেষে, ভাবুন তো, ছোট্ট একটি অক্টোপাস, যার রয়েছে এমন এক অসাধারণ শারীরিক গঠন! তাদের নীল রক্ত, ন'টি মস্তিষ্ক (হ্যাঁ, আট বাহুতে একটি করে আর একটি প্রধান মস্তিষ্ক!) আর তিনটি হৃদয় – সব মিলিয়ে তারা যেন সমুদ্রের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি।
পরের বার যখন সমুদ্রে বেড়াতে যাবেন, বা কোনো অ্যাকুয়ারিয়ামে অক্টোপাস দেখবেন, তখন শুধু তার আটটি বাহুই দেখবেন না, মনে রাখবেন তার হৃদয়ের কথা। ভালোবাসার এমন অজস্র রূপ লুকিয়ে আছে আমাদের এই পৃথিবীর আনাচে-কানাচে, শুধু একটু খুঁজে নেওয়ার অপেক্ষা!