রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, মৃতের সংখ্যা বাড়ায় চাপানউতোর
কলকাতা, ২০ অক্টোবর, ২০২৫: উৎসবের মরসুমের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্যে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫। স্বাস্থ্য দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যা প্রায় ১২০০, যা নিয়ে চিকিৎসকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি জেলার পরিস্থিতি সবচেয়ে সঙ্গীন বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং জমা জলের কারণেই মশার লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুরসভা এবং পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে মশা নিধন অভিযান এবং সচেতনতা প্রচার চললেও, অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের অসচেতনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কলকাতার একাধিক সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গি রোগীদের জন্য শয্যা বাড়ানো হলেও, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রাজনৈতিক তরজা
ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তাদের অভিযোগ, পুরসভাগুলি নিষ্ক্রিয় এবং স্বাস্থ্য দপ্তর সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্ত রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ডেঙ্গি মোকাবিলা শুধুমাত্র সরকারের একার কাজ নয়, এর জন্য নাগরিক সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়, ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ, সোমবার এক নতুন গতি লক্ষ করা গেল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই) আজ সকালে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে প্রায় চার ঘন্টা ধরে জেরা করে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। যদিও জেরার পর বাইরে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামলায় আরও গভীরে তদন্ত করতে নেমেছে। আজ রাজ্যের দুই ভিন্ন জেলায় দুজন তৃণমূল নেতার বাড়িতে একযোগে হানা দেয় ইডি-র দুটি দল। দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি চালানো হয় এবং বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখা হয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে এসেছে যা তদন্তে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। শাসক দলের পক্ষ থেকে এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে দলকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)
পুজোর পর পর্যটকদের ভিড় দিঘায়, হোটেলগুলিতে ঠাঁই নাই রব
দুর্গাপূজা এবং লক্ষ্মীপূজার ছুটি শেষ হলেও, পর্যটকদের ভিড়ে এখনও জমজমাট সৈকত শহর দিঘা। সপ্তাহান্তের সাথে ছুটির মেজাজকে মিলিয়ে নিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানাচ্ছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। শনি ও রবিবার দিঘার প্রায় সমস্ত হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলি ভর্তি ছিল।
সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নুলিয়ারা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা সমুদ্রের ধারে সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছেন। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পর্যটকদের সুবিধার জন্য পানীয় জল এবং শৌচালয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হোটেল মালিকদের মতে, পুজোর পর এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে। আগামী বড়দিন পর্যন্ত এই ভিড় বজায় থাকবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
(আরও জানতে: Google-এ অনুসন্ধান করুন)