বিষয়ের ভূমিকা

ভারত যখন ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা লাভ করে, তখন দেশটি এক চরম উত্তেজনাকর এবং সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। দেশভাগের ক্ষত, বিশাল শরণার্থী সমস্যা এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর একীভূতকরণের মতো জটিল বিষয়গুলি নবগঠিত স্বাধীন ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। দ্বাদশ শ্রেণির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যায়ে আমরা শিখব কীভাবে ভারত সেই কঠিন সময়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছিল এবং আধুনিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. দেশভাগের যন্ত্রণা ও ফলাফল

ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে গিয়েছিল দেশভাগের বিষাদ। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এর ফলে:

  • লাখো মানুষ গৃহহীন হয় এবং দাঙ্গা শুরু হয়।
  • সীমানা নির্ধারণের সময় বিশাল মানবিক সংকট তৈরি হয়।
  • ধর্মীয় মেরুকরণ রাজনীতিতে এক নতুন ধারার জন্ম দেয়।

২. দেশীয় রাজ্যগুলোর একীভূতকরণ

স্বাধীনতার সময় ভারতে ৫৬৫টিরও বেশি ছোট-বড় দেশীয় রাজ্য ছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার কারণে বেশিরভাগ রাজ্য ভারতের সাথে মিশে যেতে রাজি হয়। তবে হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় এবং কাশ্মীরের মতো কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।

৩. ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে দাবি ওঠে ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের। ১৯৫৬ সালে 'রাজ্য পুনর্গঠন আইন' পাশ হয়, যা ভারতের মানচিত্রকে নতুন রূপ দেয়। অন্ধ্রপ্রদেশ প্রথম রাজ্য হিসেবে এই ভিত্তিতে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: দেশীয় রাজ্যগুলোকে ভারতের সাথে যুক্ত করতে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা কী ছিল?
উত্তর: সর্দার প্যাটেলকে 'ভারতের লৌহমানব' বলা হয়। তিনি শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে দেশীয় শাসকদের ভারতের সাথে মিশে যেতে উৎসাহিত করেন এবং প্রয়োজনে সামরিক চাপের প্রয়োগ করে অখণ্ড ভারত গড়ে তোলেন।

প্রশ্ন ২: রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য গঠনের প্রবল দাবি ওঠায় এই কমিশন গঠিত হয়, যাতে আঞ্চলিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ভারতের ঐক্য বজায় রাখা যায়।

প্রশ্ন ৩: ভারত কি দেশভাগের পর ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হতে চেয়েছিল?
উত্তর: না, ভারত স্পষ্টভাবে নিজেকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার পায়।

সারসংক্ষেপ

  • ভারত স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশভাগের অমানবিক সংকট মোকাবিলা করে।
  • সর্দার প্যাটেলের দক্ষতায় প্রায় সকল দেশীয় রাজ্য ভারতে যুক্ত হয়।
  • ১৯৫৬ সালের আইন ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনে।
  • গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা ছিল ভারতের জাতি গঠনের মূল স্তম্ভ।