বিষয়ের ভূমিকা
দ্বাদশ শ্রেণি ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকের দশম অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের গ্রামীণ সমাজ, বিশেষত বাংলার কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়। ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে কীভাবে আমাদের চিরন্তন গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল এবং জমিদার ও কৃষকদের সম্পর্ক কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল, তা এই অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়।
মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা
এই অধ্যায়ে আমরা মূলত ব্রিটিশদের বিভিন্ন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা এবং তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করব:
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত এই ব্যবস্থার ফলে জমিদাররা জমির মালিকানায় স্থায়ী অধিকার পান। কিন্তু এর ফলে কৃষকরা অনেকটা প্রজার স্তরে নেমে আসে।
- জোতদারদের উত্থান: ব্রিটিশ ভূমি রাজস্বের চাপে অনেক জমিদার তাদের জমি হারালে এক নতুন ধনী কৃষক শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে, যাদের বলা হতো জোতদার। তারা গ্রামের বাজারে এবং কৃষকদের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করত।
- পঞ্চম রিপোর্ট (The Fifth Report): ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পেশ করা এই রিপোর্টে বাংলার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসন ও দুর্নীতির চিত্র ফুটে উঠেছিল। এটি গ্রামীণ বাংলার তৎকালীন অর্থনৈতিক অবস্থার এক অনন্য দলিল।
- সানসেট ল (Sunset Law): চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অধীনে নির্দিষ্ট দিনে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে রাজস্ব জমা দিতে না পারলে জমিদারের জমি নিলামে উঠত। এই কঠোর নিয়মটি গ্রামীণ সমাজে অস্থিরতা তৈরি করেছিল।
প্রশ্নোত্তর (Q&A)
১. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কে, কবে প্রবর্তন করেন?
উত্তর: লর্ড কর্নওয়ালিস ১৭৯৩ সালে বাংলা, বিহার ও ওড়িশায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেন।
২. পঞ্চা রিপোর্ট কী?
উত্তর: ১৮১৩ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পেশ করা একটি নথি যা ভারতের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কার্যকলাপ ও গ্রামীণ ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সমালোচনা করে।
৩. জোতদার কারা ছিলেন?
উত্তর: গ্রামের ধনী কৃষক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যারা নিজস্ব জমি চাষ করার পাশাপাশি অন্যদের জমি লিজ দিয়ে প্রচুর মুনাফা অর্জন করত।
সারসংক্ষেপ
- ঔপনিবেশিক ভূমি ব্যবস্থা সরাসরি বাংলার গ্রামীণ কৃষকদের জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।
- জমিদার ও জোতদারদের উত্থান-পতন গ্রামীণ সমাজে শ্রেণির ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়।
- সরকারি নথি ও রিপোর্ট তৎকালীন প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্নীতি ও জটিলতা বোঝার জন্য অপরিহার্য।