বিষয়ের ভূমিকা

আমাদের চারপাশে এমন অনেক জীব রয়েছে যা আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। এদেরই বলা হয় অণুজীব বা অণুজীব জগৎ। আমাদের অষ্টম শ্রেণি বিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় 'অণুজীব: বন্ধু ও শত্রু' আমাদের শেখায় কীভাবে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণীরা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে জড়িয়ে আছে। একদিকে এরা যেমন খাবার তৈরি, সার উৎপাদন এবং ওষুধ প্রস্তুতিতে সাহায্য করে, অন্যদিকে এরা বিভিন্ন মারাত্মক রোগের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

অণুজীবের শ্রেণিবিভাগ

অণুজীবদের প্রধানত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • ব্যাকটেরিয়া: এরা এককোষী জীব এবং বিভিন্ন পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে।
  • ছত্রাক: পাউরুটিতে জন্মানো সাদা বা কালো দাগ থেকে মাশরুম—সবই ছত্রাক।
  • প্রোটোজোয়া: অ্যামিবা বা প্যারামিসিয়ামের মতো প্রাণীরা এর অন্তর্গত।
  • শৈবাল: এরা সালোকসংশ্লেষ করতে পারে এবং জলজ পরিবেশে জন্মায়।
  • ভাইরাস: এরা অণুজীবের চেয়েও ক্ষুদ্র এবং শুধুমাত্র পোষক দেহের ভেতরেই বংশবৃদ্ধি করতে পারে।

অণুজীবের উপকারিতা

অণুজীব সবসময় ক্ষতিকর নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এদের ভূমিকা অপরিসীম:

  • দই ও পাউরুটি তৈরি: ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক ব্যাকটেরিয়া দুধকে দইয়ে পরিণত করে। ঈস্টের সাহায্যে পাউরুটি ও কেক ফোলাতে সাহায্য করে।
  • পরিবেশ পরিষ্কার: মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচিয়ে এরা মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
  • ওষুধ প্রস্তুতি: অ্যান্টিবায়োটিক বা টিকা তৈরিতে অণুজীবের ব্যবহার অপরিহার্য।

ক্ষতিকর অণুজীব

কিছু অণুজীব আমাদের দেহে রোগ সৃষ্টি করে, যাদের প্যাথোজেন বলা হয়। কলেরা, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও যক্ষ্মার মতো রোগ এদের মাধ্যমেই ছড়ায়। এছাড়া খাদ্যের বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিংয়ের জন্যও অনেক সময় অণুজীব দায়ী থাকে। তাই খাদ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

প্রশ্ন ১: অণুজীবদের কেন 'বন্ধু ও শত্রু' বলা হয়?
উত্তর: কারণ কিছু অণুজীব আমাদের খাবার তৈরি ও সার তৈরিতে সাহায্য করে (বন্ধু), আবার কিছু অণুজীব ক্ষতিকারক রোগ ছড়ায় (শত্রু)।

প্রশ্ন ২: অ্যান্টিবায়োটিক কী?
উত্তর: যে ওষুধ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে বা তাদের মেরে ফেলে, তাকে অ্যান্টিবায়োটিক বলে।

প্রশ্ন ৩: খাদ্য সংরক্ষণের একটি উপায় কী?
উত্তর: নুন বা চিনির মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায়, কারণ এটি আর্দ্রতা কমিয়ে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি আটকায়।

সারসংক্ষেপ

  • অণুজীবরা আমাদের পরিবেশে সব জায়গায় উপস্থিত।
  • দই, পাউরুটি, অ্যালকোহল ও ওষুধ তৈরিতে এদের ভূমিকা অনন্য।
  • ভ্যাকসিন বা টিকা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে অণুজীবের সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।