বিষয়ের ভূমিকা

ভারত ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে। তবে এই স্বাধীনতা একই সঙ্গে নিয়ে এসেছিল দেশভাগের ক্ষত এবং জাতি গঠনের এক অসামান্য চ্যালেঞ্জ। জওহরলাল নেহরুর ভাষায়, এটি ছিল 'নিয়তির সঙ্গে অভিসার'। এই অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব কীভাবে একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভারত তার অভ্যন্তরীণ ঐক্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়েছিল।

মূল ধারণাগুলির বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. দেশভাগের যন্ত্রণা ও পুনর্বাসন

১৯৪৭ সালের দেশভাগ ছিল ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক অধ্যায়। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হয়। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। তাদের পুনর্বাসন দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা ছিল নবগঠিত সরকারের সামনে প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ।

২. দেশীয় রাজ্যগুলোর অন্তর্ভুক্তি

স্বাধীনতার সময় ভারতে ৫৬৫টিরও বেশি দেশীয় রাজ্য ছিল। ব্রিটিশ সরকার তাদের স্বাধীন থাকার সুযোগ দিলে ভারতের অখণ্ডতা বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অসামান্য কূটনৈতিক দক্ষতায় অধিকাংশ রাজ্য ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা ছিল যা পরবর্তীতে মিটমাট করা হয়।

৩. ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠন

ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে। ১৯৫৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ গঠনের পর সরকার 'রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন' (SRC) গঠন করে। ১৯৫৬ সালে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন আইন পাস হয়, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও মজবুত করে।

৪. উন্নয়নের পরিকল্পনা

দেশ গঠনের জন্য সরকার অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথ বেছে নেয়। ১৯৫০ সালে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত হয়, যার মাধ্যমে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সূচনা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শিল্পায়ন।

প্রশ্নোত্তর (Q&A)

  • প্রশ্ন: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে 'ভারতের লৌহমানব' বলা হয় কেন?
    উত্তর: সর্দার প্যাটেল তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে ভারতের ৫৬৫টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে আধুনিক ভারতের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, তাই তাঁকে লৌহমানব বলা হয়।
  • প্রশ্ন: রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন কবে গঠিত হয়?
    উত্তর: ১৯৫৩ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয়েছিল।
  • প্রশ্ন: দেশভাগের প্রধান প্রভাব কী ছিল?
    উত্তর: দেশভাগের ফলে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, শরণার্থী সমস্যা এবং উভয় দেশের মধ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

সারসংক্ষেপ

  • ভারত স্বাধীনতার পর বহু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছে।
  • দেশীয় রাজ্যগুলোর অন্তর্ভুক্তি ভারতের অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছে।
  • ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন ভারতের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক।
  • পরিকল্পিত অর্থনীতি ভারত গঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।