ভালোবাসা! আহা, কী মধুর এক অনুভূতি! কখনও কখনও এই ভালোবাসার বশে মানুষ এমন সব কাজ করে বসে, যা শুনলে অবাক হতে হয়। আজ আপনাদের শোনাবো এমন এক প্রেমের গল্প, যা জন্ম দিয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রিয় একটি জিনিস – চকোলেট!
চকোলেটের জন্মকথার আড়ালে এক মিষ্টি প্রেমের অভিশাপ
বিশ্বাস করবেন কি, আপনার প্রিয় চকোলেট আসলে আবিষ্কৃত হয়েছিল এক 'ভুল' থেকে, যা কিনা এক প্রেমিকের হতাশাজনক প্রেম নিবেদনেরই ফল?
ঘটনাটা প্রায় হাজার হাজার বছর আগের, প্রাচীন মায়ান সভ্যতার। সেই সময় চকোলেট, আজকের মতো মিষ্টি আর সুস্বাদু ছিল না মোটেই। বরং, এটি ছিল তেতো, মশলাদার এক পানীয়, যা মূলত পুরোহিত এবং যোদ্ধারা পান করতেন। কিন্তু কেন এই তেতো পানীয় নিয়ে এত মাতামাতি? এর পিছনেও ছিল এক অদ্ভুত বিশ্বাস – এই পানীয় নাকি শক্তি, সাহস আর প্রেম নিবেদনের এক বিশেষ মন্ত্রের মতো কাজ করে!
গল্পটা এক তরুণ মায়ান যোদ্ধার, যার নাম ছিল ‘ইজ়টলি’। ইজ়টলি গভীর ভালোবাসায় পড়েছিল গ্রামের সবচেয়ে সুন্দরী তরুণী ‘মিক্সলি’-এর। কিন্তু মিক্সলি ছিল রাজকন্যার মতো, তার মন জয় করা সহজ ছিল না। ইজ়টলি অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিল, সে সেই বিশেষ তেতো চকোলেট পানীয় বানিয়ে মিক্সলিকে উপহার দেবে। সে বিশ্বাস করত, এই পানীয় নাকি ভালোবাসার সব বাধা দূর করে দিতে পারে!
ইজ়টলি অনেক মশলা মিশিয়ে, বিশেষ পদ্ধতিতে সেই পানীয় তৈরি করল। কিন্তু হায়! মিক্সলি সেই তেতো পানীয় একদম পছন্দ করল না। তার কাছে এ যেন এক অদ্ভুত তেতো অভিশাপ! হতাশ ইজ়টলি সেই পানীয় ফেলে দিতে গিয়েও পারল না। সে নিজেও পান করল। আর ঠিক তখনই ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। সেই তেতো পানীয় পান করার পর নাকি তার মন আরও শান্ত, আরও স্থির হয়ে গেল। মনে হলো, যেন এক অপার্থিব শক্তি তাকে ঘিরে ধরেছে!
এই ‘ভুল’ বা ‘ব্যর্থ’ প্রেম নিবেদনের ঘটনা থেকেই নাকি পরবর্তীতে চকোলেটের মূল উপাদানের ব্যবহার আরও ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সাথে সাথে, নানা দেশে, নানা অঞ্চলে এই তেতো পানীয়তে চিনি, দুধ, আর অন্যান্য মিষ্টি জিনিস মিশিয়ে আজকের এই লোভনীয় চকোলেটের জন্ম। কিন্তু কে জানত, আপনার প্রিয় চকোলেটের পেছনে লুকিয়ে আছে এমন এক ব্যর্থ প্রেমকাহিনী!
পরের বার যখন আপনি চকোলেট খাবেন, মনে করে দেখুন ইজ়টলি আর মিক্সলির কথা। আর ভাবুন, কখনও কখনও ব্যর্থতাও যে কত মিষ্টি কিছু উপহার দিতে পারে!