আচ্ছা, ভাবুন তো, আপনার সকাল শুরু হলো এক কাপ গরম, কড়া কফি দিয়ে। আহা! কী আরাম! কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই যে এক চুমুক কফি আপনার ঘুমন্ত চোখ দুটোকে সজাগ করে তোলে, এর পেছনে লুকিয়ে আছে একদল উদ্দাম নাচতে থাকা ছাগল আর এক অবিশ্বস্য উপাখ্যান?
ছাগলদের সেই 'কফি পার্টি'!
বিশ্বাস করুন বা না করুন, আজকের এই বিশ্বনন্দিত পানীয়, কফি, তার আবিষ্কারের জন্য নাকি ঋণী একদল ছাগলের কাছে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন! গল্পটা অনেক, অনেক কাল আগের। ইথিওপিয়ার এক চারণভূমিতে এক মেষপালক, যার নাম ছিল কালদি, সে একদিন লক্ষ্য করলো তার ছাগলগুলো এক বিশেষ ধরনের ফল খেয়ে অদ্ভুতভাবে উচ্ছ্বল হয়ে উঠছে। তারা সারারাত ধরে তিড়িংবিড়িং করে লাফাচ্ছে, যেন তাদের মধ্যে কোন এক নাচের নেশা চেপেছে!
সেই যে ছাগলগুলোর সারারাত ধরে নাচের উদ্দামতা, সেটাই নাকি জন্ম দিয়েছিল আজকের বিশ্ববিখ্যাত কফির!
কালদি নিজেও খানিকটা কৌতূহলী হয়ে সেই ফলগুলো খেলেন। আর কী আশ্চর্য! তিনিও অনুভব করলেন এক অভূতপূর্ব শক্তি আর সতেজতা। রাতারাতি যেন তার আলস্য কেটে গেল, মন ভরে উঠল নতুন উদ্যমে। তিনি ব্যাপারটা স্থানীয় এক মঠের সন্ন্যাসীদের জানালেন। প্রথমে তারা ব্যাপারটা তেমন পাত্তা দিলেন না, বরং এই ফলগুলোকে শয়তানের কাজ ভেবে আগুনে ফেলে দিলেন। কিন্তু মশাই, যেখানে ভাগ্যের লিখন, সেখানে কে আর ঠেকায়! যেই না ফলগুলো আগুনে পড়ল, অমনি এক মনমাতানো সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। সেই পোড়া ফলগুলো থেকে যা বের হলো, তা কেবল সুগন্ধই নয়, বরং এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিল।
সন্ন্যাসীরা এবার পোড়া ফলগুলোর নির্যাস সংগ্রহ করলেন এবং জল দিয়ে মিশিয়ে পান করলেন। আর তারপর? আর তারপর যা হলো, তা ইতিহাসে লেখা রইল! সেই পানীয় পান করে তাদের আর ঘুম পেত না, সারারাত ধরে তারা প্রার্থনা করতে পারত। এভাবেই নাকি জন্ম হলো কফির, যা আজও কোটি কোটি মানুষের ঘুম তাড়ানো, মন জাগানো এক অপরিহার্য সঙ্গী!
তো, পরের বার যখন আপনি এক কাপ কফি হাতে নেবেন, মনে রাখবেন, এর পেছনে আছে একদল উল্লসিত ছাগলের নাচের গল্প, এক মেষপালকের পর্যবেক্ষণ আর এক মঠের পোড়া ফলের সুবাসিত বিপ্লব!